জন্ম থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের চোখের সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত ও সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামে ইপিআই টিকাদানকারীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগিতায় ‘টিকাদানকারীর মাধ্যমে শিশুর প্রাথমিক চক্ষু পরীক্ষা—সুস্থ জীবন ও সুস্থ দৃষ্টির প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো ০–১৫ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে দৃষ্টিসংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা এবং জটিল ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে রেফার করা—যার মাধ্যমে শিশু অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী ইপিআই টিকাদানকারীদের শিশুর চোখের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিতকরণ, প্রাথমিক পর্যায়ে করণীয়, এবং সঠিক রেফারাল প্রক্রিয়া বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রকল্পটি জার্মানির কাকস্ আই সেন্টার ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং রোটারি ক্লাব অব চট্টগ্রাম খুলশি সেন্ট্রাল-এর সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
অনুষ্ঠানে আয়োজকরা জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের জন্য চক্ষু সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে জটিলতা অনেকাংশে কমে আসবে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও প্রকল্প আহ্বায়ক কনসালটেন্ট ডা. সোমা রানী রায়, ডা. প্রতিমা মহাজন, ডা. মো. সাজেদুর রহমান, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসলিম উদ্দিন সবুজ, হাসপাতালের পরিচালক ডা. অং সুই প্রু মারমা, পরিচালক (ইনচার্জ) ডা. মো. বখতিয়ার আলম, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর (পেডিয়াট্রিক) ডা. রোকসানা আহমেদ, কনসালটেন্ট পেডিয়াট্রিক ডা. মো. কুদরত ই এলাহী, রোটারি ক্লাব অব চট্টগ্রাম খুলশি সেন্ট্রালের ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট মো. মহিউদ্দিন এবং প্রকল্পের সদস্য সচিব বোরহান উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট টিকাদানকারীরা।
কর্মসূচি শেষে ডা. সোমা রানী রায় বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এতে শিশুদের চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।