বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে রাতারাতি কাঁচা সড়কে বিছানো ইট সফর শেষে তুলে নেওয়ায় ফের দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে পাকাকরণের অপেক্ষায় ছিল। গত অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এ সড়কটি কার্পেটিংয়ের জন্য প্রায় ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে দরপত্র ও কার্যাদেশ হলেও নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদার কাজ শুরু করেননি।
এ অবস্থায় গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সড়কটি অস্থায়ীভাবে ইট-বালু দিয়ে সোলিং করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তড়িঘড়ি করে ভাটা থেকে ইট এনে শ্রমিকদের মাধ্যমে পুরো ৫০০ মিটার সড়কে ইট বিছানো হয়, যাতে সফর নির্বিঘ্ন হয়। এতে আনুমানিক প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়।
কিন্তু সফর শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই সড়কের পুরো অংশে বিছানো সেই ইট তুলে ফেলা হয়। এতে এখন বৃষ্টির দিনে কাদা-পানিতে চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের সময় ইট বিছানোর পর আমরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু এখন আবার ইট তুলে নেওয়ায় চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, নিয়ম মেনেই অস্থায়ীভাবে ইট সোলিং করা হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পে স্থায়ীভাবে সড়ক পাকা করার জন্য আগেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে, তাই অস্থায়ীভাবে বিছানো ইট পরে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, “অস্থায়ী কাজের জন্য ইট কেনা হয়নি, ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তাই কাজ শেষে ইট তুলে নেওয়া হয়েছে।”
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হক ট্রেডার্স এখনো সড়ক পাকাকরণের মূল কাজ শুরু করেনি বলে জানা গেছে। ফলে স্থানীয়দের ভোগান্তি কবে শেষ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।