সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী তহবিলের আওতায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
শনিবার (৬ জুন) সকাল ১১টায় ইউনিয়নের ভাটগাঁও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উদ্যোগে পাইকুরাটি বাজারের সামনের সড়কে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন কৃষক মাসুক, আলেক মিয়া, মাসুক তালুকদার, মো. দুলাল মিয়া তালুকদার, মো. মৌলা মিয়া, আব্দুল হাসিম, বকুল মিয়া তালুকদার ও মো. কাউছারসহ অনেকে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রভাব খাটিয়ে আত্মীয়স্বজন ও অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করেছেন। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষকের নাম বাদ পড়েছে।
তারা বলেন, ভাটগাঁও গ্রামে প্রায় আড়াইশ’ কৃষক বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মাত্র ৯ জন কৃষক কার্ড পেয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজনের হাওরে কোনো জমিই নেই বলে দাবি করেন তারা। এমনকি কেউ কেউ গার্মেন্টসকর্মী হওয়া সত্ত্বেও সুবিধাভোগীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন বলেও অভিযোগ তোলেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা।
সমাবেশ থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বিষয়টিতে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ বিষয়ে পাইকুরাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ইকবাল বলেন, বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি কার্ড সংক্রান্ত বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। কৃষি অফিস, ইউপি সদস্য ও বিএনপির নেতারা মিলে তালিকা প্রস্তুত করেছেন। আমাদের ইউনিয়নের অনেক ওয়ার্ডে ৩০০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম দেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে ৫০ জনের নাম দিতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম হওয়ায় পুরো ইউনিয়নে মাত্র ৮৫৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।