কারামুক্তির পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার অভিযোগে সিটি করপোরেশনের এক কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।
চাকরিচ্যুত কর্মচারীর নাম টরিক আহমেদ। তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে পিয়নের দায়িত্ব পালন করতেন। বৃহস্পতিবার (৫ জুন) তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
টরিক আহমেদের দাবি, নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকায় সাবেক মেয়র আইভীর বাড়ির পাশেই তার বাড়ি। বুধবার রাতে জামিনে মুক্ত হয়ে আইভী বাড়িতে ফেরার পর এলাকার অন্য বাসিন্দাদের সঙ্গে তিনিও সেখানে যান। পরে তার উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক তাকে ডেকে পাঠান।
টরিকের ভাষ্য, বিষয়টি স্বীকার করার পরই তাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়।
তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান অভিযোগটি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আইভীর সঙ্গে দেখা করার কারণে নয়, বরং চাকরির নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে টরিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
প্রশাসকের দাবি, টরিক সিটি করপোরেশনে কর্মরত থাকার পাশাপাশি একটি ব্যাংকের এজেন্ট শাখায়ও কাজ করতেন। নিয়মিত হাজিরা দিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কারামুক্ত হয়ে নিজ বাড়িতে ফেরার পর সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বাড়ির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বুধবার রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় নারী কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। পরে তিনি নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকায় নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুটির’-এ ফিরে যান। সেখানে স্বজন ও সমর্থকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এর আগে তার বিরুদ্ধে থাকা মোট ১২টি মামলার সবকটিতে আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তির পথে আর কোনো আইনি বাধা ছিল না।
ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১১, ২০১৬ ও ২০২২ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে মেয়র পদ থেকে অপসারণ করা হয়।