আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না—সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও আদালতের। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ইসি ও আদালতই সিদ্ধান্ত নেবে; অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের মতামত এখানে নির্ধারক নয়।
রবিবার (১৯ জুলাই) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে বিএনপির ২০২৫ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে দলের হিসাব তুলে দেন রিজভী। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ঠেকাতে জামায়াতে ইসলামী ইসিতে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, এবারের নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না। তাই কে নির্বাচন করবে বা করবে না, সেটি আদালত ও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। প্রচলিত আইন এবং নতুন প্রণীত আইন অনুযায়ী ইসি বিষয়টি নির্ধারণ করবে।
বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, যেহেতু নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না, তাই দলের প্রার্থী বাছাই কীভাবে হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিদ্ধান্ত নেবে এবং সময় হলে তা জানানো হবে।
দলের জাতীয় সম্মেলন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সম্মেলন অবশ্যই হবে। তবে এখনো নির্দিষ্ট তারিখ বা মাস চূড়ান্ত হয়নি। দ্রুতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর ভাষ্য, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলনের চূড়ান্ত প্রকাশ ছিল জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান। তিনি দাবি করেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলনের সমন্বয়ে সংঘটিত এ অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।