জুলাই সনদ : পাল্টাপাল্টি অবস্থানে সরকার ও বিরোধী দল

আবদুর রহমান মল্লিক

রাজনীতি

জুলাই সনদ নিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম হয়ে উঠছে। সরকারি দল ও বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে বিরোধপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির আভাস পাওয়া

2026-07-17T21:09:57+00:00
2026-07-17T21:10:19+00:00
  শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬,
২ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
জুলাই সনদ : পাল্টাপাল্টি অবস্থানে সরকার ও বিরোধী দল
আবদুর রহমান মল্লিক
শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৯ পিএম  আপডেট: ১৭.০৭.২০২৬ ৯:১০ পিএম
সংগৃহীত ছবি
জুলাই সনদ নিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম হয়ে উঠছে। সরকারি দল ও বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি  বক্তব্যে বিরোধপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যাখা দিলেও তাতে সন্তুষ্ট নয় জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) ৩৬ দিনের কর্মসূচিতেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে জোর দাবি জানিয়ে আসছে।  

সরকারের (বিএনপি) ও বিরোধী পক্ষের (জামায়াতসহ অন্যান্য দল) মধ্যে তীব্র মতবিরোধ চলছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের পদ্ধতি নিয়ে। বিরোধী পক্ষের দাবি, সনদ অনুযায়ী স্বতন্ত্র ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করতে হবে। অন্যদিকে সরকার নিজস্ব নির্বাচনী ম্যান্ডেট অনুযায়ী সংশোধনের পক্ষে অনড়। বিরোধী দলগুলো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের অধীনে একটি নিরপেক্ষ সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি করে আসছে। সরকার সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, যার কড়া সমালোচনা করছে বিরোধী দল।

গত বুধবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল, তার প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তিনি তার বক্তব্যে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে একটি জবাবদিহিমূলক, কল্যাণমুখী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। 

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই সনদ আমাদের জাতীয় জীবনের অন্যতম অর্জন। কিন্তু সরকার তা বাস্তবায়ন না করে গণরায়ের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করছে। হয়তো আপনারা ভাবছেন সময় তো শেষ হয়ে গেছে। তার সময় এখনো শেষ হয়নি। আর এ বিষয়ে আমরা কোনো আপস করব না; ছেড়ে কথা বলব না।

অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবার রংপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা করেছে। তারা গণভোটের রায় কার্যকর করছে না। জুলাই সনদ তারা মুখে মুখে কার্যকর করবে বলছে, এটা তাদের মৌখিক প্রতারণা। তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার কমিশন করবে, সেটিও তারা করেনি। আমরা আশা করব, গণভোটের যে গণরায় সেই রায়ের আলোকে রাষ্ট্রসংস্কার করতে হবে। দুর্নীতি বৈষম্য দূর করে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘বিএনপি ইচ্ছা করে জুলাই সনদকে না মেনে ১২ কোটি মানুষের গণভোটের গণরায়কে না মেনে নিজেরাই জাতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এখনো সময় আছে পার্লামেন্টে আলোচনা করুন, সংবিধান সংস্কারের বিশেষ কমিটি গঠন করুন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিশেষ বৈঠক ডাকুন। আপনারা যদি এটি সংসদে নিষ্পত্তি না করে রাজপথে নিয়ে যেতে চান, বিরোধী দলগুলোকে এক করে অথবা গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা রাজপথে নামব। জুলাই সনদ না মানলে জামায়াত সংসদে ও রাজপথে যুগপৎ আন্দোলন করবে।’

বিএনপির দাবি তারা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জনগণের ভোটে সরকার নির্বাচন করেছে তাই তারা গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিচালনা করবে। তারা ‘সংস্কারের’ পরিবর্তে ‘সংশোধনের’ পক্ষে এবং জনরায় পাওয়ায় সরকার নিজস্ব রূপরেখা অনুযায়ীই এগোবে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর দাবি, জুলাই সনদের চেতনা অনুযায়ী আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। তাদের অভিযোগ, সরকার সনদের নির্দেশনাকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের মতো আইন তৈরির চেষ্টা করছে এবং তাদের দাবি সংসদে না মানলে রাজপথের ফয়সালা হতে পারে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, আমি মনে করি, বিরোধী দল শুধুমাত্র তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই জুলাইকে (জুলাই সনদ) তারা ব্যবহার করতে চায়। আমরা কিন্তু চাই না যে, জুলাই শুধু ক্ষমতার যাওয়ার জন্য আরেকটা হাতিয়ারে পরিণত হোক। তিনি বলেন, তিনি বলেন, বিএনপি সম্পর্কে অনেকে অনেক কথা বলেন। বিএনপির ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, বিএনপির প্রায় ১৭শ নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে। বিএনপি কয়েক হাজার মানুষ হত্যা হয়েছে এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে। সুতরাং এই কথাগুলো বারবার করে আমাদেরকে বলতে হয় এজন্য যে, অনেকে এটাকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন।

ফলে সরকারি ও বিরোধী দলের এমন মন্তব্যে দিন দিন বিরোধ সুস্পষ্ট হয়েছে উঠছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হবার আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। আইনি ও রাজনৈতিক সংকটবিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, সরকার ও বিরোধী দলের এই দূরত্বের কারণে রাষ্ট্র সংস্কারের পথ দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়তে পারে। এমনকি দুই পক্ষের এই মুখোমুখি অবস্থান দেশটিকে নতুন কোনো রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। 



Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: