খুলনা মহানগরীতে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। অভিযানের প্রথম রাতেই হত্যাকাণ্ডে জড়িতসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার কেএমপি সদর দপ্তরে খুলনা শহরের বর্তমান আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি সংক্রান্তে পুলিশ কমিশনারের সভাপতিত্বে এক বিশেষ অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বর্তমান আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় যৌথভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কেএমপি সূত্রে জানা যায়, নগরীর ৮ থানায় ১৮১ জন সন্ত্রাসী, ৫৮৪ জন মাদক বিক্রেতা এবং ৬৯ জন চাঁদাবাজের একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত করে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়। বুধবার রাতে কেএমপি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বিশেষ অপরাধ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযানের প্রথম রাতেই লবণচরা থানার পুলিশ যুবক রাশেদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন মন্টু হাওলাদার, মুসা গাজী ও মিরাজ। পুলিশ জানিয়েছে, তারা হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং পূর্বের বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডেও জড়িত।
একই রাতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর সহযোগীসহ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ইয়াবা, নগদ অর্থ এবং একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনের মোবাইলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রচারণা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, অপরাধ দমনে এই বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে। নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
এদিকে, লবণচরা থানার স্কুলভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় কাজী রাশিদুল ইসলাম রাশেদ নামের এক যুবককে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, দৌলতপুর থানা এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে মাদক, গুলিবর্ষণ ও একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত চক্রগুলো শনাক্ত করে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। নগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।