সারা দেশের ন্যায় চট্টগ্রামেও তীব্র গরমে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। টানা কয়েকদিনের তাপপ্রবাহ ও কাঠফাটা রোদে বাইরে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও অনুভূত তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে গরমের তীব্রতায় খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। ঘরের বাইরে কাজ করেও স্বস্তি মিলছে না। এতে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। হাসপাতালগুলোতেও সিজনাল ফ্লু ও গরমজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তীব্র গরম ও মৌসুমি ফ্লুর কারণে মানুষ বেশি অসুস্থ হচ্ছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। তারা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
এদিকে তীব্র তাপদাহে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার প্রাণীকুলও অস্থির হয়ে পড়েছে। খাঁচায় বন্দি বাঘসহ অন্যান্য প্রাণীরা পানির ট্যাংকে শরীর ডুবিয়ে গরম থেকে স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করছে। বানরসহ অন্যান্য প্রাণীদেরও গাছের ছায়া ও পানিতে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাণীদের সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খাঁচাগুলোতে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং পানিতে স্যালাইন, ইলেকট্রোলাইট ও ভিটামিন সি মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, তীব্র গরমে প্রাণীরা অস্থির হয়ে পড়েছে। হিটস্ট্রোক থেকে রক্ষায় তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চিড়িয়াখানার প্রায় প্রতিটি খাঁচায় অতিরিক্ত পানির ব্যবস্থা রয়েছে। বাঘের খাঁচায় একাধিক বাঘ পালাক্রমে পানিতে শরীর ডুবিয়ে স্বস্তি নিচ্ছে। বানরসহ অন্যান্য প্রাণীরাও পানিতে নেমে শরীর ভিজিয়ে আবার ছায়ায় ফিরে যাচ্ছে।
অন্যদিকে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চট্টগ্রামে বর্তমানে কোনো তাপপ্রবাহ নেই, তবে গরম পরিস্থিতি আরও এক-দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদ ইসমাইল ভূঁইয়া জানান, শুক্রবারও এ ধরনের গরম অনুভূত হতে পারে। আগামী শনিবার থেকে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ৩৬–৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মৃদু, ৩৮–৩৯.৯ ডিগ্রি মাঝারি, ৪০–৪১.৯ ডিগ্রি তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রি বা তার বেশি তাপমাত্রাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।