বরগুনার আমতলীতে সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে এক নারীর বিরুদ্ধে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভুক্তভোগীরা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা এলাকার লতিফ মাদবরের মেয়ে জাকিয়া সুলতানা নিজেকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের সরকারি সুবিধা—গভীর নলকূপ, ফ্যামিলি কার্ড, ভিজিডি/ভিজিএফ কার্ড, বয়স্ক, বিধবা ও মাতৃত্বকালীন ভাতা—দিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত এক বছরে অন্তত ১০ লাখ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। তবে প্রতিশ্রুত কোনো সেবা বা সুবিধা কেউ পাননি। টাকা ফেরত চাইতে গেলে তিনি বিভিন্ন টালবাহানা করেন বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগী জসিম মিয়া বলেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে গভীর নলকূপ বসিয়ে দেওয়ার কথা বলে জাকিয়া সুলতানা আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেন। এক বছর পার হলেও নলকূপ দেননি, এখন টাকা চাইলে টালবাহানা করছেন।
আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী—রুস্তুম মৃধা, ফিরোজা বেগম, নুরজাহান বেগম ও মাহফুজা বেগম—জানান, নলকূপ দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। পরিভানু, রোজিনা ও শাহিনুর বেগম অভিযোগ করেন, ভিজিএফ কার্ড করে দেওয়ার নামে তাদের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়। অন্যদিকে মাহিয়া বেগম জানান, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত জাকিয়া সুলতানার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
আমতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মাঞ্জুরুল হক কাওসার বলেন, এই নামে কোনো নারী কখনো সমাজসেবা অফিসে কর্মরত ছিলেন না এবং বর্তমানে নেই। তাকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
আমতলী থানার ওসি আবু শাহাদাৎ মোঃ হাচনাইন পারভেজ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত এলাকায় অবস্থান করেন না বলে জানা গেছে। তাকে গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।