ঢাকার দোহার উপজেলায় পৃথক অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১জুন) রাত থেকে মঙ্গলবার (২জুন) বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, নারিশা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন দ্বীপ এবং ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক মো. সারোয়ার আলম হানিফ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সোমবার রাতে নারিশা পশ্চিমচর এলাকার জীবনের মুরগির ফার্মসংলগ্ন স্থান থেকে যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন দ্বীপকে গ্রেপ্তার করে দোহার থানা পুলিশ। তিনি নারিশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবুল কালামের ছেলে।
জানা গেছে, গত ১৯ মে সকালে নারিশা পশ্চিমচর বটতলা এলাকায় ইয়াসিন নামে এক কলেজছাত্রকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ রয়েছে শাহাদাত হোসেন দ্বীপের বিরুদ্ধে। এ সময় নুরু নামে এক ব্যক্তি আহত ছাত্রকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ইয়াসিনের পক্ষ থেকে দোহার থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে শাহাদাত হোসেন দ্বীপকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের মইতপাড়া এলাকা থেকে ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক মো. সারোয়ার আলম হানিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার ভিত্তিতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।”
সাম্প্রতিক সময়ে দোহার উপজেলায় বিভিন্ন মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। চলমান মামলাগুলোর তদন্তের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।