হবিগঞ্জে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে রবিবার সকালে জীবন দাস নামের এক যুবক তাকে বানিয়াচং নানার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা জানতে পুলিশ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সোমবার ভোর রাতে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়। সে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল এবং তার একটি পরীক্ষা এখনও বাকি ছিল বলে জানিয়েছে পরিবার।
নিহত কিশোরীর বাড়ি আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর এলাকায় হলেও তিনি বানিয়াচং উপজেলার মশাকলি গ্রামে নানার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতেন। তার মা মারা যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, বানিয়াচং উপজেলার সোনারু গ্রামের জীবন দাস নামের এক যুবকের সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রোববার তাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের উমেদনগর বাণিজ্যিক এলাকার কাছে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত অবস্থায় কিশোরীকে উদ্ধার করে তার নানাকে খবর দেওয়া হয়। পরে তিনি তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, কিশোরীকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে অথবা কোনো দুর্ঘটনার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। স্বজনরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি নিয়ে একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সদর থানার এসআই নুরুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নিহতের নাক দিয়ে ফেনা বের হওয়ার বিষয়টিও তদন্তে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
এ বিষয়ে এসআই নুরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে কোনো ধর্ষণের অভিযোগ নিশ্চিত নয়, তবে সব দিক থেকেই বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। চলমান এসএসসি পরীক্ষার মধ্যেই এক পরীক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।