তেঁতুলিয়ায় শিক্ষিকার জাল সনদে ২২ বছর চাকরি, ফেরত দিতে হবে প্রায় ২০ লাখ টাকা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

সারাদেশ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার নাওয়াপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘ সাড়ে ২২ বছর চাকরি করার

2026-06-01T14:56:13+00:00
2026-06-01T14:56:55+00:00
  সোমবার, ২২ জুন ২০২৬,
৮ আষাঢ় ১৪৩৩
 
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
সারাদেশ
তেঁতুলিয়ায় শিক্ষিকার জাল সনদে ২২ বছর চাকরি, ফেরত দিতে হবে প্রায় ২০ লাখ টাকা
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ২:৫৬ পিএম  আপডেট: ০১.০৬.২০২৬ ২:৫৬ পিএম
নাওয়াপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। ছ
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার নাওয়াপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘ সাড়ে ২২ বছর চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) ওই শিক্ষিকার বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলিত ১৯ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬১ টাকা আদায়যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর অভিযুক্তদের এমপিও বাতিল, নিয়োগ বাতিল এবং সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একই সঙ্গে ভুয়া সনদধারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের নির্দেশনা দিয়ে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় নাওয়াপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) মোছা. ফাতেমা জান্নাহর বিরুদ্ধে সম্প্রতি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফাতেমা জান্নাহ কর্তৃক দাখিলকৃত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদটি জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ডিআইএর পরিচালক অধ্যাপক এম. এম. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত জাল ও ভুয়া সনদধারী শিক্ষকদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালে জাল বা ভুয়া সনদধারীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া পর্যন্ত তিনি সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা হিসেবে মোট ১৯ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬১ টাকা উত্তোলন করেছেন। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী, এ অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে।

এ বিষয়ে ফাতেমা জান্নাহর স্বামী ও একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কম্পিউটার সনদ নিয়ে আপত্তি ওঠার পর একাধিকবার শোকজ করা হয়েছিল। তিনি জানান, দুই দফা শোকজের জবাব দেওয়ার পর পুনরায় শোকজ করা হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবারও জবাব দাখিল করা হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (ডিজি অফিস) এবং বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) থেকেও পৃথকভাবে শোকজ করা হয়েছিল। কম্পিউটার সনদের বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, সনদটি সঠিক রয়েছে। অডিটর এক লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা না দেওয়ায় তিনি এমন প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে আমাদের ধারণা।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অডিট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে সনদটি জাল বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: