হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৩১ মে) রাতে উপজেলার বনদক্ষিণ, সুলতানশী, চরহামুয়া ও বনগাঁও গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ১০টার দিকে বনদক্ষিণ গ্রামের এক যুবককে মাদক সেবনের অভিযোগে চরহামুয়া গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি আটক করে রাখে। বিষয়টি জানাজানি হলে উভয় পক্ষের স্বজন ও সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরবর্তীতে বনদক্ষিণ ও সুলতানশী গ্রামের লোকজনের সঙ্গে চরহামুয়া ও বনগাঁও গ্রামের বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে নারী-পুরুষসহ অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হন।
আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ৪ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, “চার গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।