দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে একটি মহল নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
শনিবার (৩০ মে) নগরের ষোলশহর ২ নম্বর গেটস্থ বিপ্লব উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বিপ্লব উদ্যান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে এখান থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিরোধ ও বিদ্রোহের আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরদিন ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেন। তাঁর নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও সাহসিকতা স্বাধীনতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেই জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতির নতুন ধারা সূচনা করেন। একদলীয় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে জনগণের অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলায় তাঁর অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
চসিক মেয়র বলেন, বর্তমানে আমরা লক্ষ্য করছি, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে নানা উপায়ে বিকৃত ও ভূলুণ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে সাম্য, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে। বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের যে স্বপ্ন শহীদ জিয়াউর রহমান দেখিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত রচনায় জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও রেমিট্যান্স খাতে তাঁর নেওয়া পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতিকে নতুন গতি দিয়েছিল। তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপনের মাধ্যমে তিনি উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন।
চামড়া শিল্পের বর্তমান সংকটের প্রসঙ্গ তুলে মেয়র বলেন, একসময় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এ শিল্প আজ নানা সমস্যায় বিপর্যস্ত। শিল্পটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার সম্ভব।
চট্টগ্রামকে দেশের পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শুধু স্বাধীনতার ইতিহাসের নয়, দেশের অর্থনীতিরও প্রাণকেন্দ্র। বন্দর, শিল্প, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করতে হবে।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। ভবিষ্যতে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম জাতীয় অর্থনীতির আরও শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশপ্রেম, সততা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সংকটাপন্ন দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁর আদর্শ ধারণ করে দুর্নীতিমুক্ত, আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, আজকের দিনে আমাদের শপথ হোক—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, সততা ও আদর্শকে ধারণ করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।