পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদের জামাত। সকাল থেকেই মুসল্লিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ঈদগাহ ময়দান। দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির অংশগ্রহণে ঈদের এই জামাত পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত প্রধান জামাতে ধনী-গরিব, ছোট-বড় এবং দল-মত নির্বিশেষে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদের জামাতে অংশ নিতে সকাল সোয়া ৭টা থেকেই মুসল্লিরা মাঠে প্রবেশ করতে শুরু করেন। মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঈদগাহ ময়দানজুড়ে নেওয়া হয় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠের চারপাশে স্থাপন করা হয় ১৮টি প্রবেশপথ। সেখানে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি শেষে মুসল্লিদের প্রবেশ করানো হয়। এছাড়া দুটি ওয়াচ টাওয়ার ও ৩৬টি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো ময়দান সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা বলেন, মুসল্লিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করেছে। শান্তিপূর্ণভাবে এত বড় জামাত সম্পন্ন হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।
জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ এই ঈদ জামাতে আগত মুসল্লিদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছিল। সকলের সহযোগিতায় সুন্দরভাবে জামাত সম্পন্ন হয়েছে।
ঈদের জামাতে শব্দ পৌঁছে দিতে মাঠজুড়ে স্থাপন করা হয় ৮০টি মাইক। এছাড়া ইমামকে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসা থেকে অর্ধশতাধিক মুকাব্বির দায়িত্ব পালন করেন।
জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ মিনারটি ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। ৫১৬ ফুট দীর্ঘ এই মিনারে রয়েছে সর্বোচ্চ ৬০ ফুট উচ্চতার দুটি গম্বুজ এবং ৫২টি নান্দনিক গম্বুজ। বিশাল এ ঈদগাহ মাঠ উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদের জামাতের স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ ময়দানে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত সম্পন্ন হওয়ায় আমি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। এই মাঠ দিনাজপুরবাসীর গর্ব।
ঈদের এ প্রধান জামাতে ইমামতি করেন জাতীয় ইমাম সমিতি দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমি।