মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রায় তিন মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে আটকে আছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। পরিবার-পরিজন থেকে দূরে সাগরের মাঝেই টানা দ্বিতীয় ঈদ উদযাপন করলেন জাহাজটির ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক। বুধবার (২৭ মে) ঈদুল আজহার নামাজও তাঁরা আদায় করেছেন জাহাজের ডেকে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজটি গত ফেব্রুয়ারিতে ভারত থেকে পণ্য নিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল বহন করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। তবে ঠিক এরপরই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করলে হরমুজ প্রণালি হয়ে নিরাপদে বের হতে পারেনি জাহাজটি।
বিএসসি সূত্র জানায়, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটিকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তিনবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৭ এপ্রিল জাহাজটি সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে হরমুজের কাছাকাছি পৌঁছালেও ইরান কর্তৃপক্ষ পারাপারের অনুমতি দেয়নি। পরে জাহাজটিকে আবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনাসাকার বন্দরের বহির্নোঙরে ফিরে যেতে হয়।
জাহাজে থাকা এক নাবিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভালো খাবার, পানি সবই আছে। কিন্তু পরিবারের বাইরে পরপর দুই ঈদ কাটানো খুব কষ্টের। সবচেয়ে বড় ভয় হলো—কখন কোথায় হামলা হয়, সেই আতঙ্ক সবসময় কাজ করে।
নাবিকদের পরিবারগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ বিরাজ করছে। নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্বস্তি ফিরছে না কারও মনে। নাবিকেরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় সাগরে থাকার অভিজ্ঞতা তাঁদের থাকলেও যুদ্ধের মধ্যে আটকে পড়ার অভিজ্ঞতা এই প্রথম।
এদিকে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর এম মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, জাহাজের সব নাবিক সুস্থ আছেন এবং তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, জাহাজটি নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
বর্তমানে জাহাজটিতে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন অথবা মোজাম্বিকে যাওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পুরো যাত্রাই এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।