ঈদ সামনে রেখে বাড়ি ফেরার আনন্দ মুহূর্তেই আতঙ্কে বদলে যায় ভোলার মেঘনা নদীতে চলাচলকারী বিআইডব্লিউটিসির সি-ট্রাক ‘সাঙ্গু’র পাঁচ শতাধিক যাত্রীর জন্য।
বুধবার (২৭ মে) সকালে হঠাৎ দমকা হাওয়া ও ঝোড়োবৃষ্টির মধ্যে উত্তাল মেঘনায় পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় নৌযানটি। প্রায় এক ঘণ্টার শঙ্কার পর অবশেষে নিরাপদে ইলিশা ঘাটে পৌঁছালে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন যাত্রীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। একই সময়ে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর ঘাট থেকে ভোলার ইলিশা ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয় সি-ট্রাক ‘সাঙ্গু’। যাত্রীতে পরিপূর্ণ নৌযানটি ইলিশা ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছাতেই প্রবল ঝড় ও বিশাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে।
বড় বড় ঢেউয়ের কারণে ঘাটে ভিড়তে না পেরে সি-ট্রাকটি মাঝনদীতে একটি ভার্জিং বয়ার সঙ্গে নোঙর করে রাখা হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে উত্তাল নদীর সঙ্গে লড়াই করতে থাকে নৌযানটি। এ সময় ঢেউয়ের পানিতে ভিজে যান অনেক যাত্রী। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন, কেউ আবার মোবাইলে স্বজনদের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলতে থাকেন।
ঝড় কিছুটা কমে এলে সি-ট্রাকটি নিরাপদে ইলিশা ঘাটে ভেড়ে। তীরে নেমেই অনেক যাত্রী মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। কেউ মাটিতে সিজদা দেন, আবার কেউ আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ভোলা নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, সি-ট্রাকের মাস্টার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই ভার্জিং বয়ার সঙ্গে নোঙর করেছিলেন। এতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হলেও সেটি ছিল নিরাপদ সিদ্ধান্ত। পরে সব যাত্রী নিরাপদে তীরে পৌঁছেছেন।
এদিকে একই ঝড়ে ভোলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝের চরে অন্তত ১২টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়ে জেলার বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় কৃষক মাইনুদ্দিন জানান, ঝড়ে তাঁর ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। নষ্ট হয়েছে চাল-ডাল, বীজ ও সৌরবিদ্যুতের প্যানেল। ঈদের আগে এমন ক্ষতিতে পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ক্ষয়ক্ষতির খবর আসছে। কোথাও ২০টি, কোথাও ৩০ থেকে ৩৫টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।