৭ কোটি টাকার ভবনে অনিয়মের ছাপ বের হচ্ছে নির্মাণকাজে অনিয়মের চিহ্ন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সারাদেশ

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনের কাজে প্রকাশ্যেই অনিয়ম ও দুর্নীতি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এখনই ভবনের রঙচঙ উঠে যাচ্ছে। নিম্নমানের

2026-05-25T13:56:43+00:00
2026-05-25T13:56:43+00:00
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ ভবন
৭ কোটি টাকার ভবনে অনিয়মের ছাপ বের হচ্ছে নির্মাণকাজে অনিয়মের চিহ্ন
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১:৫৬ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনের কাজে প্রকাশ্যেই অনিয়ম ও দুর্নীতি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এখনই ভবনের রঙচঙ উঠে যাচ্ছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কুফলও দৃশ্যমান হচ্ছে। পাইলিং, ঢালাই, গাঁথুনি থেকে শুরু করে ফিনিসিং পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করেছেন ঠিকাদার। মৌখিকভাবে চারতলা ভবনের কাজটি বুঝে নিয়ে নিয়ে এখন আরো এক তলার কাজ নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে শুরু করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। 

সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরিনা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করে। 

২০২২-২৩ অর্থবছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যাচ্ছেতাইভাবে কাজ বাস্তবায়ন করে। তারা ইচ্ছেমতো কাজ বাস্তবায়ন করা শুরু করে শেষ পর্যন্ত। যার ফলে নিম্নমানের কাজের কারণে নির্ধারিত সময়ের পরও কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

ভবন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, প্রাক্কলন অনুযায়ী দরোজা, জানালা, গ্রীল, কালার, ফিটিংস, ইলেকট্রিক সামগ্রী, টাইলস, লাইটিং কিছুই করেনি। ভবনের রঙ ওঠে যাচ্ছে ভবনটি সংশ্লিষ্টদের গ্রহণের আগেই। 

জানা গেছে, প্রাক্কলনে যে ধরনের ওয়েদারকোট রঙের ব্যবহার করার কথা সেই রঙ ব্যবহার করেনি। প্লাস্টারও করা হয়েছে বালুর বদলে নিুমানের বালু দিয়ে। প্লাস্টারের পর কিউরিং করার করার কথা থাকলেও কিউরিং করা হয়নি। যার ফলে এখনই অনিয়মের চিহ্ন বেরিয়ে আসছে। 

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সিঁড়ির রেলিংয়ে ব্যবহৃত হয়েছে নিম্নমানের পাতলা এসএস স্টিল। জানালার গ্রিলের নির্ধারিত মান অনুসরণ করা হয়নি। বাথরুমে ফিটিংস, পাইপ, বেসিন ও কমোড, দরোজাসহ অন্যান্য সামগ্রীতেও ডিটেইলস ইস্টিমেড অনুযায়ী উপকরণ দেওয়া হয়নি। পুরো ভবনের কাজে নিম্নমান বজায় রাখা হলেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা ছিলেন নীরব-এমন অভিযোগ আছে। 

কাজ নিয়মিত দেখেছেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলজিইডি কার্যালয় ভবনের মাত্র ১০০ গজ দূরত্বে অবস্থান করলেও প্রকল্পটি চলাকালীন সঠিকভাবে তদারকি করা হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হেমায়েত দাবি করেন, আমরা যথাযথভাবে কাজ করেছি। শতভাগ কাজ স¤পন্ন হয়েছে। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে ভবন বুঝে নেওয়ার আবেদন করেছি। 

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা উপজেলা এলজিইডি’র (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মৌখিকভাবে আমরা ভবনটি গ্রহণ করেছি। উপরে নতুন করে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫ম তলার কাজ চলছে। এটি সম্পন্ন হলেই আমরা ভবন গ্রহণ করে কাজ শুরু করবো। তবে ভবন লিখিতভাবে গ্রহণ করার আগে আমরা আবারও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ত্রুটি বিচ্যুতি সারাতে বলবো। 



Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: