বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপের একটি পোস্টে মন্তব্য করেছিলেন নারী শিক্ষার্থী। এরপর নাম গোপন করে (অ্যানোনিমাস) ওই মন্তব্যের উত্তর দেন একজন। এতে ওই নারী শিক্ষার্থীকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়। পরে জানা যায় যে পরিচয় গোপন করে মন্তব্য করা ওই ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আলি আহসান মোজাহিদ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘ভয়েস অব স্টুডেন্টস’ নামের একটি সংগঠনের জনসংযোগ সম্পাদক।
শনিবার (২৩ মে) রাতে এই ঘটনাটি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের প্রাইভেট ফেসবুক গ্রুপ ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’-এ শামসুন নাহার হল ও হল সংসদ নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে মন্তব্য করার জের ধরে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে উদ্দেশ্য করে অ্যানোনিমাস বা ছদ্মনামে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন মোজাহিদ। পরবর্তীতে ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিন ও মডারেটরদের সহায়তায় অভিযুক্তের আসল পরিচয় সামনে আসে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও মোজাহিদ একে অপরের পূর্বপরিচিত এবং আগে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে তারা একসাথে অংশ নিয়েছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী জানান, ঘটনার পর মোজাহিদ বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং ক্ষমা চেয়েছেন। তবে ছদ্মনাম ব্যবহার করে এমন আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
অভিযুক্ত আলি আহসান মোজাহিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার শিবিরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সংগঠনটির শাখা সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন,মোজাহিদ আমাদের সংগঠনের নিম্নস্তরের একজন কর্মী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় এবং বর্তমানে অন্য সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী কারো অন্য সংগঠনে যুক্ত থাকার সুযোগ নেই। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগীকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে চাকসু (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ)। চাকসুর আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ফজলে রাব্বি জানান, ভুক্তভোগীর সম্মতি সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাগিং ও বুলিং প্রতিরোধ সেলে অভিযোগ দায়ের এবং প্রয়োজনে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চাকসুর ফ্রি লিগ্যাল সেলের মাধ্যমে তাকে আইনি সহায়তাও প্রদান করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেন জানান, এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সেলের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।