কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গুলিবিদ্ধসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৩ মে) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ছাতারপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- বকুল, সুমন, আকালী ও কদভানু। তারা সবাই স্থানীয় বিএনপি-সমর্থিত প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে বকুল গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাতারপাড়া গ্রামে মালিথা বংশ ও মন্ডল বংশের মধ্যে জমিজমা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে শনিবার দুপুরে মালিথা বংশের কয়েকজন সদস্য ও সমর্থক একত্রিত হয়ে প্রতিপক্ষ মন্ডল বংশের আব্দুল হান্নানের ছেলে কর্নেলের কৃষি কাজে ব্যবহৃত সেচ মোটর (ডিপ) ঘরে তালা লাগিয়ে দেয় এবং তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়।
এসময় কর্নেল ও তার সমর্থকরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এতে বকুলের পায়ে গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সংঘর্ষে মালিথা বংশের বকুল, সুমন ও আকালী আহত হন। অপরদিকে, মন্ডল বংশের কর্নেলের মা কদভানু আহত হন। আহতদের দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।