সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি।
শুক্রবার (২২ মে) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— এম আমিনুর রহমান শান্ত (৪৪) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা অধিশাখার কর্মচারী নিলুফা সুলতানা (৫৬)।
ডিবি জানায়, গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব কামরুল হাসান ডিএমপি কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, এক ব্যক্তি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পরিচয় ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতির ব্যবস্থা করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং এ কাজে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাব দিচ্ছে।
তদন্তের একপর্যায়ে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাতিরঝিল থানার পশ্চিম রামপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা এম আমিনুর রহমান শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শান্ত প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজ বিশ্লেষণ করে চক্রের আরও একজন সদস্যের তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা বিভাগের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিলুফা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার নিলুফা সুলতানার সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন আনিসুর রহমান শান্ত। তাদের কাছ থেকে একাধিক মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার পর জানা যাবে, কতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অর্থের বিনিময়ে বদলির সুবিধা পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এছাড়া রামিসা হত্যা মামলার তদন্ত নিয়েও কথা বলেন ডিবি প্রধান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার আসামি আগে থেকেই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।