ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মোহাম্মদ আল-মাসরি।
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মিডিয়া স্টাডিজ প্রোগ্রামের এই গবেষক কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নেওয়ায় জিসিসির অভ্যন্তরে নতুন রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আল-মাসরির ভাষ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানবিরোধী অবস্থানে তুলনামূলক বেশি সক্রিয়। দেশটি চায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে তাদের লক্ষ্য পূরণ করুক। একইসঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রেও ইউএই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অপরদিকে কাতার ও ওমান দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের সঙ্গে তুলনামূলক ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তবুও এই দুই দেশ নতুন কোনো যুদ্ধ বা সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহী বলে জানান আল-মাসরি।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব আপাতত মধ্যম অবস্থানে থাকলেও ধীরে ধীরে কাতার ও ওমানের কূটনৈতিক অবস্থানের দিকে ঝুঁকছে।
আল-মাসরির মতে, চলমান এই সংঘাত শেষ হওয়ার পরও উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও মতবিরোধ আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা।