হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবনে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছে। ভবনের দেয়াল ও ছাদে বড় বড় ফাটল, পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে আসা এবং বৃষ্টির সময় পানি চুঁইয়ে পড়ায় রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জরুরি বিভাগসহ নারী ও পুরুষ ওয়ার্ড এখনও ওই ভবনেই পরিচালিত হচ্ছে।
হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা জানিয়েছেন, ঝুঁকি জেনেও বাধ্য হয়ে রোগীদের সেবা দিতে হচ্ছে। রাতে ডিউটির সময় আতঙ্কে থাকতে হয় এবং যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এমনকি নিরাপত্তার জন্য এক কর্মচারীকে হেলমেট পরে দায়িত্ব পালন করতেও দেখা গেছে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসার পাশাপাশি ভবন ধসে পড়ার ভয়ও তাড়া করছে। রাতে পলেস্তারা খসে পড়ার শব্দে ঘুম ভেঙে যায় বলে জানিয়েছেন কয়েকজন স্বজন।
৩১ শয্যার হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও অবকাঠামো ও জনবল সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে চিকিৎসকের ৪৫টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। এছাড়া নার্স ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। মাধবপুর ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও বিজয়নগর উপজেলার মানুষ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনার শিকার রোগীরাও নিয়মিত এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।
মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমরুল হাসান জানান, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবনটিকে ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও বাজেট সংকটের কারণে এখনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। তবে জুনের পর মেরামতকাজ শুরু হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।