টানা বৃষ্টি ও সাম্প্রতিক বন্যার প্রভাবে চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে আবারও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে সবজির দাম। উৎপাদন কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। এক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।
সোমবার (২৭ জুলাই) নগরীর কাজীর দেউড়ি, বহদ্দারহাট ও কর্নেলহাটসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, শিম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা, ফুলকপি ৩০০ টাকা, করোলা ১৬০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা এবং বেগুন, বাঁধাকপি, মুলা ও শসা ১২০ টাকা কেজি দরে। ঝিঙের দাম ১০০ টাকা, পটল ও মিষ্টি কুমড়া ৮০ টাকা, লাউ ৭০ টাকা এবং আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা কেজি।
ক্রেতাদের অভিযোগ, মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও এসব সবজির অনেকগুলো ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে পাওয়া যেত। এমনকি ১০ দিন আগেও যেসব সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন সেগুলোর বেশির ভাগই ১০০ টাকার ওপরে উঠে গেছে। ফলে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কাজীর দেউড়ি বাজারে বাজার করতে আসা শেখ মহিউদ্দিন বাবু বলেন, এখন প্রায় সব সবজির দামই ১০০ টাকার বেশি। সপ্তাহের বাজার করতে আগের তুলনায় কয়েকশ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। এভাবে সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।
এক গৃহিণী বলেন, আগে একসঙ্গে পাঁচ-ছয় ধরনের সবজি কিনতাম। এখন দুই-তিন ধরনের বেশি কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ভালো মানের সবজির দিকে তাকানোরও উপায় নেই।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় চট্টগ্রাম, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, দোহাজারী, সাতকানিয়া, ফটিকছড়ি ও নাজিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকার সবজির খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আড়তে পর্যাপ্ত সবজি আসছে না। সীমিত সরবরাহের কারণে পাইকারি পর্যায়েই দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ শফিক (মিন্টু) বলেন, আড়তে সবজির সংকট রয়েছে। যা পাওয়া যাচ্ছে, সেটাও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করছি।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃষ্টি কমে উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবজির দামে দ্রুত স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম। ফলে আপাতত চট্টগ্রামের ভোক্তাদের উচ্চমূল্যের এই চাপই বহন করতে হবে।