বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের পরই আলোচনায় এসেছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কামাল হোসেন মুফতির পরিচালিত ব্যক্তিগত ক্লিনিক।
সরকারি দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগত ক্লিনিক পরিচালনার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের অভিযানে ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ‘ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামের ওই ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়।
এর আগে দুপুরে স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা(স্বাস্থ্য) শফিউর রহমান ও বাগেরহাটের সিভিল সার্জন আ স ম মাহবুবুর রহমান হাসপাতাল পরিদর্শনে যান।
এসময় তারা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও রোগীদের সেবার গুনগত মান, খাবারের মান, ওষুধপত্র ঠিকমত রোগীরা পাচ্ছেন কিনা এসব বিষয়ে ভর্তি থাকা রোগীদের কাছে গিয়ে খোঁজ খবর নেন।
বিভাগীয় পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনে থাকা প্রায় ২৯ লাখ টাকা মূল্যের ৩০ প্রকারের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যথাযথ প্রক্রিয়ায় অপসারণ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য জেলা সিভিল সার্জনকে বলেন।
একইসঙ্গে মোরেলগঞ্জ হাসপাতালে কর্মরত যেসব কর্মকর্তার সময়ে বিপুল পরিমাণের ওই ওষুধ মেযাদোত্তীর্ণ হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে সেসব কর্মকর্তাকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন আ স ম মাহবুবুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। এখানে নানা প্রকার অনিয়ম পাওয়া গেছে। হাসপাতালের পাশে থাকা ‘ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিক সিলগালা করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য অনিয়মের বিষয়েও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
উল্লেখ, গেল শনিবার বেলা ১১টার দিকে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। দুই ঘন্টাব্যাপী পরিদর্শনে মন্ত্রী হাসপাতালে নানা অনিয়ম দেখতে পান। হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষ খুলে চক্ষু চরকগাছ হয় মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের। পরিত্যক্ত ওই ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ভরা ছিল সরকারি ওষুধ, স্যালাইন, সুই-সিরিঞ্জ ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী। এমনকি শৌচাগারেও ছিল স্যালাইন ও ওষুধের স্তূপ। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি বিভাগীয় পরিচালককে মোবাইল ফোনে নির্দেশ দিয়েছিলেন।