গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে জিংক ও পুষ্টি সমৃদ্ধ ঢেঁকি ছাঁটা চাল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে উপজেলা কৃষি অফিস। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে পুষ্টিগুণসম্পন্ন চালের ব্যবহার বাড়াতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহেল।
জানা গেছে, আধুনিক মিলের অতিরিক্ত পালিশ করা চালের তুলনায় ঢেঁকি ছাঁটা চালে অধিক পরিমাণে পুষ্টিগুণ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান থাকে। বিশেষ করে জিংক সমৃদ্ধ ধান থেকে উৎপাদিত চাল শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। পুষ্টিহীনতা দূরীকরণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের চাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহেল বলেন, “মানুষকে শুধু খাদ্য দিলেই হবে না, পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করাও জরুরি। তাই কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে জিংক সমৃদ্ধ ধানের আবাদ বাড়ানো এবং ঢেঁকি ছাঁটা চাল উৎপাদনে আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করছি।”
তিনি আরও জানান, কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে মহদীপুর ইউনিয়নের কেত্তার পাড়ায় কৃষক রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের জিংক সমৃদ্ধ ধানের বীজ—ব্রি ধান-৭৪, ব্রি ধান-১০০ ও ব্রি ধান-১০২ বিতরণ করা হয়েছে। এসব জাতের ধান উৎপাদনের মাধ্যমে ঢেঁকি ছাঁটা জিংক সমৃদ্ধ চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়েছে। এতে কৃষকরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি সাধারণ মানুষও পাচ্ছেন নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে তারা এখন জিংক সমৃদ্ধ ধানের চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি ঢেঁকি ছাঁটা চালের চাহিদাও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই এটিকে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জিংক মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং অপুষ্টি দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে জিংক সমৃদ্ধ ঢেঁকি ছাঁটা চাল মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কার্যকর অবদান রাখতে পারে।
পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে জেলাজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদনে পলাশবাড়ী একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে গড়ে উঠবে।