হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র নকল ও ভেজাল কীটনাশক তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করে আসছে। এতে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন কৃষকরা। ভেজাল কীটনাশক ব্যবহারে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়ছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চক্রটি বিভিন্ন নামী কোম্পানির মোড়ক ও লেবেল নকল করে নিম্নমানের রাসায়নিক দিয়ে ভেজাল কীটনাশক তৈরি করে আসছে। পরে এসব পণ্য কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। সেখানে তাদের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট বাজারজাতের কাজ পরিচালনা করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার শানখলা ইউনিয়নের দিঘীরপাড় এলাকায় একটি বাড়িতে তৈরি করা হয় নকল কীটনাশক। একই এলাকার সমেদ মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া, সেবুল মিয়া, বাবুল মিয়া, জামাল মিয়া ও সাইফুল মিয়ার নেতৃত্বাধীন একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নকল কীটনাশক তৈরি ও বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
একাধিকবার প্রশাসনের অভিযানে এই চক্রের সদস্যরা আটক ও অর্থদণ্ড করা হলেও পুনরায় একই কাজ করছে তারা। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। সবশেষ শায়েস্তাগঞ্জ নতুনব্রীজ এলাকার এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাঠানোর কালে ৫ বস্তা নকল কীটনাশক আটক করে উপজেলা কৃষি অফিস। পরবর্তীতে অজ্ঞাতকারনে ছেড়ে দেওয়া হয় নকল কীটনাশক।
বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।
কৃষকদের অভিযোগ, বাজার থেকে অধিক দামে কীটনাশক কিনে ব্যবহারের পরও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছেন না তারা। বরং অনেক ক্ষেত্রে জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নকল কীটনাশক উৎপাদন ও বাজারজাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের প্রতারণা বন্ধ হবে না। একই সঙ্গে কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর মাধ্যমেও যাতে অবৈধভাবে এসব পণ্য পরিবহন করা না যায়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এবিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পর কুরিয়ার সার্ভিসে লোক পাঠয়েছি। তারা নকল কীটনাশক নিশ্চিত করে কুরিয়ারকে এই কীটনাশক না পাঠাতে অনুরোধ করেছি। এসময় আইনানুগ ব্যবস্থা কেন গ্রহন করা হয়নি এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দেননি তিনি।