চট্টগ্রাম মহানগরে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন নামঞ্জুরকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত সহিংসতা, ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলার তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) থেকে সরিয়ে পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৩ মে) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিক এ আদেশ দেন। মামলাটি করেছিলেন নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের ভাই জানে আলম। এর আগে মামলার তদন্তভার ডিবি উত্তর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোস্তফা কামালের ওপর ন্যস্ত ছিল।
শুনানিকালে আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে আদালতের বিভিন্ন প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব তিনি দিতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মামলার এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা মিলিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ আসামির কাউকেই এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি তদন্তেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না থাকায় আদালত তদন্ত সংস্থা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন।
আলিফ হত্যা মামলার আইনজীবী ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, মামলার সংবাদদাতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে অধিকতর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে পিবিআইকে তদন্তভার গ্রহণের নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত সহিংসতা ও আইনজীবী আলিফ হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করছিল ডিবি। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় এবং তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করেন মামলার বাদী।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসময় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে রঙ্গম কনভেনশন গলিতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।এ ঘটনায় হত্যা, ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনে মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়।