ফ্রান্স থেকে ফেরা মহাস্থানগড়ের প্রত্ননিদর্শন আসল না নকল? তদন্তে কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

সারাদেশ

বগুড়ার মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের হাজার কোটি টাকা মূল্যের প্রত্ননিদর্শন ফ্রান্সের গিমে জাদুঘরে পাঠানো হয়েছিল। তবে প্রত্নসম্পদগুলো আসল অবস্থায় দেশে ফিরেছিল

2026-05-12T18:37:10+00:00
2026-05-12T18:37:10+00:00
  শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬,
১২ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
সারাদেশ
ফ্রান্স থেকে ফেরা মহাস্থানগড়ের প্রত্ননিদর্শন আসল না নকল? তদন্তে কমিটি গঠন
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৬:৩৭ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বগুড়ার মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের হাজার কোটি টাকা মূল্যের প্রত্ননিদর্শন ফ্রান্সের গিমে জাদুঘরে পাঠানো হয়েছিল। তবে প্রত্নসম্পদগুলো আসল অবস্থায় দেশে ফিরেছিল কি না, তা নিয়ে নতুন করে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, দেশে ফেরত আসা অধিকাংশ প্রত্ননিদর্শন কোনো ধরনের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই বছরের পর বছর স্টোর রুমে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে-এগুলো কি আসল, নাকি রেপ্লিকা। বিষয়টি তদন্তে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল ইসলামকে প্রধান করে ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি নতুন করে উঠে আসে। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। সভায় কয়েকজন সদস্য ২০০৭ সালে ফ্রান্সফেরত প্রত্ননিদর্শনের প্রকৃত অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরে প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

জানা যায়, ২০০৭ সালে দেশের বিভিন্ন জাদুঘরের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ননিদর্শন ফ্রান্সে প্রদর্শনীর জন্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে মহাস্থান জাদুঘরের অন্তত ৪৭টি মূল্যবান প্রত্নসম্পদ ছিল। এসব প্রত্ননিদর্শনের ঐতিহাসিক ও প্রত্নমূল্য হাজার কোটি টাকার সমপর্যায়ের হতে পারে। তৎকালীন সময়ে ফ্রান্সের গিমে জাদুঘরে প্রদর্শনীর জন্য সে দেশের দূতাবাস সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায়। পরে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, জাতীয় জাদুঘর ও বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের সঙ্গে ফ্রান্সের তিনটি পৃথক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

২০০৭ সালের ১৮ নভেম্বর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় প্রত্ননিদর্শন পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সম্মতি দেওয়া হয়। তবে প্রদর্শনীর দ্বিতীয় ধাপে একটি মূর্তি বিমানবন্দরে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুরো প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়। এরপর ফ্রান্সের সঙ্গে প্রদর্শনী চুক্তি বাতিল করা হয় এবং প্রত্ননিদর্শনগুলো দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

তবে দেশে ফেরার পর এসব প্রত্নসম্পদ আদৌ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, তার কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফেরত আসা নিদর্শনের মধ্যে মাত্র দুই-তিনটি জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য রাখা হলেও অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে স্টোররুমে পড়ে রয়েছে। এ নিয়ে এখন স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট অনেকের ধারণা, তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কাস্টডিয়ান আব্দুল জোব্বার হয়তো আসল প্রত্ননিদর্শন কালোবাজারে বিক্রি করে তার পরিবর্তে রেপ্লিকা প্রতিস্থাপন করেছে। পরে বিষয়টি আড়াল করতেই সেগুলো স্টোর রুমে ফেলে রাখা হয়েছে। 

মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টডিয়ান রাজিয়া সুলতানা জানান, কিছু সামগ্রী প্রদর্শনের জন্য রাখা হলেও বাকিগুলো স্টোর রুমে সংরক্ষিত আছে। যেহেতু এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ফ্রান্সে পাঠানো প্রত্ননিদর্শনগুলো আসল নাকি রেপ্লিকা-তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে দীর্ঘ ১৯ বছর পর প্রত্ননিদর্শনগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সরকারি তদন্ত শুরু হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। 


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: