অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)–এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে তাদের অপসারণ দাবি করেছে ‘এসডিএফ কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’।
শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিনের কর্মকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সংস্থাটি সংকটের মুখে পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসডিএফের জেনারেল ম্যানেজার ফৌজিয়া তৌহিদ অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. আব্দুল মজিদ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন। তিনি দাবি করেন, বয়সসীমা অতিক্রম করা সত্ত্বেও নুরুল আমিনকে নিয়মিত সুবিধাসহ ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ নীতির পরিপন্থী।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, চলমান ‘আরইএলআই’ প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ২০০ গ্রাম সমিতির জন্য ল্যাপটপ কেনাকাটায় বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে ক্রয়ের বিধান থাকলেও নিম্নমানের পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে প্রায় ১৫ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।
যুব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচনেও অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। বক্তারা বলেন, নির্ধারিত টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রভাব খাটানো ও ক্রয় কমিটির ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, নতুন নিয়োগ বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করতে অভিজ্ঞ কর্মীদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৩২০ জন দক্ষ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং বর্তমানে কর্মরত প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।
বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর আস্থা কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে চলমান প্রকল্প ও গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে এসডিএফের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।