সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যানগর উপজেলায় টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন হাওরের নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পাকা ধান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। অনেক জমির ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে, আবার কোথাও কোথাও ডুবুডুবু অবস্থায় রয়েছে। এতে যে কোনো সময় সম্পূর্ণ ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে ৪দিনে টানা বৃষ্টির কারণে কাটা ধানও ঠিকমতো শুকাতে পারছেন না কৃষকরা। খলায় রাখা ধান ভিজে গেরা উঠে (চারা গজিয়ে) নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যারা আগাম ধান কেটে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন, তারা এখন নতুন করে বিপাকে পড়েছেন।
জানা গেছে,দুই উপজেলার বিভিন্ন হাওরের নীচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে ছোট ছোট বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় মোট আবাদকৃত জমির পরিমাণ ৩১,৯১০ হেক্টর। এর মধ্যে হাওরে আবাদ হয়েছে ২৫১৮০ হেক্টর। নন হাওরে আবাদ হয়েছে ৬৭৩০ হেক্টর।গত চার দিনে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাঠে অতিবৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে জলাবদ্ধকৃত ১৬৮৩ হেক্টর জমি। দুই উপজেলায় একেবারে নষ্ট হওয়া জমির পরিমাণ ২৭০৩ হেক্টর।
ধর্মপাশা উপজেলার মেউহারী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোফাজ্জল হোসেন জানান, শ্রমিক সংকট ও তেলের উচ্চমূল্যের কারণে কৃষকদের খরচ বেড়ে গেছে। উপরন্তু জমিতে পানি থাকায় হারভেস্টার মেশিন নামানো যাচ্ছে না, ফলে শ্রমিক দিয়ে হাতে ধান কাটতে হচ্ছে। প্রতিদিনই বৃষ্টিপাতের ফলে ধান কাটা, ধান শুকানো, ধান পরিবহন অত্যান্ত দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনো ধান কাটা কোন হাওরে শেষ হয়নি। অন্যদিকে শত শত মণ ধান ভেজা অথবা আধা শুকনা অবস্থায় শুকানোর জন্য ধানের খলাতে পড়ে আছে। আবার কোথাও কোথাও স্তুপকৃত ধানের টালে ধানে চারা গজিয়েছে। তিনি আরো বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগ যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের কথা বলে তা সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যা কল্পনা করার মত নয়।
মধ্যনগর উপজেলার কাহালা বিশারা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রামকৃষ্ণ পাল জানান, তারা দিনরাত চেষ্টা করেও ধান ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেউ নৌকায়, কেউ কোমর সমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে সেই প্রচেষ্টা বারবার ব্যাহত হচ্ছে। কাটা ধান শুকাতে না পারায় নতুন করে বিপদ দেখা দিয়েছে, ধানে চারা গজাতে শুরু করেছে। সারাবছরের পরিশ্রম শেষ সময়ে এসে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রাতভর বৃষ্টি, সকালে ঝড়- এই অবস্থায় ধান বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আশয়াদ বিন খলিল রাহাত বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমরা কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি। দ্রুত ধান কাটার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনি রায় বলেন, আমি বিভিন্ন খলায় খলায় ঘুরে কৃষকদের সমস্যা ও তাদের আহাজারি শুনেছি। অনেক কৃষক কাটা ধান নিয়ে রোদের অপেক্ষায় দিনের পর দিন বসে আছে, অনেকের ধানে আবার চারা গজাচ্ছে। এ সমস্ত বিষয় দেখে আমার খুবই খারাপ লেগেছে। বিষয় গুলো তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন এবং কৃষকদের প্রণোদনার বিষয়েও কথা বলবেন।