প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪১ পিএম (ভিজিটর : ৯৭)
দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান থাকায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খানের নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোতে মোট জমা রয়েছে ৫ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৭ টাকা।
রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন তদন্তের স্বার্থে এসব হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করেন।
দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে, তিনি নিজ নামে বা স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন বা অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টা করতে পারেন। এ কারণে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলো থেকে অর্থ উত্তোলন, হস্তান্তর কিংবা স্থানান্তর বন্ধ রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এর আগে একই আদালত তদন্তের স্বার্থে শহীদ খানের দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, যাতে তিনি অনুসন্ধান চলাকালে বিদেশে যেতে না পারেন। আদালতের নির্দেশে তার একাধিক ব্যাংক হিসাব স্থগিতের পাশাপাশি এসব হিসাবের অর্থের উৎস, লেনদেনের ধরন এবং সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়েও তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্টদের নামে থাকা সম্পদ যাতে তদন্ত চলাকালে গোপন, স্থানান্তর বা অপসারণ করা না যায়, সেই লক্ষ্যেই সাধারণত এ ধরনের অবরুদ্ধের আদেশ চাওয়া হয়। অতীতেও একই ধরনের অভিযোগে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সাবেক কর্মকর্তাদের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করার নজির রয়েছে।
আইনজ্ঞদের মতে, অনুসন্ধান পর্যায়ে হিসাব অবরুদ্ধ রাখার মাধ্যমে সম্ভাব্য অবৈধ সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায় এবং তদন্ত সম্পন্ন হলে আদালত প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুদকের অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত শহীদ খানের আর্থিক লেনদেনের ওপর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। তদন্তের অগ্রগতি ও প্রাপ্ত তথ্যের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা