পিরোজপুরের নেছারাবাদে দলীয় কোন্দল ও নেতৃত্বের বিভক্তি আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি একসঙ্গে পালন না করে তিনটি পৃথক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দিবসটি উদযাপন করেছেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা। রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে পৃথক স্থান থেকে বের হওয়া মিছিলগুলো শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে পৃথক আলোচনা সভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী মো. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি র্যালি বের হয়। পৌর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে র্যালিটি নেছারাবাদ থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় কাজী মো. কামাল হোসেন বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা হয়েছিল। তাঁর শাসনামলে দেশের বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সহযোগিতা করতে হবে।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাসির উদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে নতুন ডাকবাংলো থেকে আরেকটি র্যালি বের হয়। উপজেলা ও পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি বলেন, স্বরূপকাঠিতে বিএনপির গ্রুপ একটাই। সেই গ্রুপের নেতৃত্ব দেবেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর হাত শক্তিশালী করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মইনুল হাসানের নেতৃত্বে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে থেকে তৃতীয় মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি বাজার রোড, তেঁতুলতলা ও পুরাতন থানা সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতারা বক্তব্য দেন।
তিনটি পৃথক কর্মসূচি ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, তিনটি গ্রুপ পৃথক স্থান ও সময়ে কর্মসূচি পালন করেছে। তবে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. ফকরুল আলম বলেন, বর্তমানে উপজেলা বিএনপির কোনো কমিটি না থাকায় নেতৃত্বের অনৈক্য থেকে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সবাইকে একসঙ্গে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হলেও কেউ সাড়া দেননি। নতুন কমিটি গঠন হলে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দীর্ঘদিন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কমিটি না থাকা এবং নেতৃত্বের বিভক্তির কারণে দলটির অভ্যন্তরীণ দূরত্ব যে এখনো কাটেনি, পৃথক তিনটি কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে।