বিএমইউতে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিবিধ

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) চার দিনব্যাপী ‘ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল’ (আইপিসি) শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর

2026-11-08T17:23:46+00:00
2026-11-08T17:23:46+00:00
  রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬,
২৪ কার্তিক ১৪৩৩
 
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
বিবিধ
বিএমইউতে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন
নিজস্ব প্রতিবেদক
রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:২৩ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) চার দিনব্যাপী ‘ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল’ (আইপিসি) শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। এ সময় ‘ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল’ শীর্ষক একটি ম্যানুয়াল গ্রন্থেরও মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, বিএমইউতে ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলবিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া আধুনিক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার কথা চিন্তা করা যায় না। ব্যক্তি পর্যায়েও আইপিসির প্রটোকল মেনে চলতে হবে। একজন চিকিৎসককে একদিকে রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, অন্যদিকে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোও সামাল দিতে হয়। তাই আইপিসি নিয়মিত চর্চার বিষয়।

তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও চিকিৎসকদের নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের প্রতিটি বিষয় মনোযোগ ও গুরুত্বের সঙ্গে শিখতে হবে। নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে সবাই আইপিসির প্রটোকল মেনে চলবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমইউর ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল কমিটির সভাপতি ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মজিবুর রহমান হাওলাদার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল এবং পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. ইরতেকা রহমান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল কমিটির সদস্যসচিব ও ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাজী আলী আফতাব এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুরাদ সুলতান।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. খালেদ মাহবুব মুর্শেদ এবং পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফারজানা ইসলাম।

চার দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও চিকিৎসকেরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে কোনো রোগী যেন নতুন করে সংক্রমণের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল বা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষায়িত চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএমইউ হাসপাতালেও কার্যকর আইপিসি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

তবে বিএমইউ হাসপাতালে এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। দীর্ঘদিন ধরে সেন্ট্রাল স্টেরিলাইজেশন সাপ্লাই ডিপার্টমেন্ট (সিএসএসডি) না থাকায় বিভিন্ন বিভাগ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করে আসছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিদ্যমান জনবলসংকটের মধ্যে নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীদের অতিরিক্ত তদারকির দায়িত্ব দিলে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হাসপাতালের আইসিইউ, এনআইসিইউ ও সাধারণ ওয়ার্ডে অতিরিক্ত দর্শনার্থীর প্রবেশ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে এনআইসিইউতে নবজাতকদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকায় সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। অন্যদিকে, অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে যন্ত্রপাতির যথাযথ জীবাণুমুক্তকরণ, জীবাণুমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা এবং অস্ত্রোপচারের ক্ষত পরিচর্যা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

রোগীর স্বজনদের দেখার সুবিধার্থে আইসিইউ ও এনআইসিইউর বাইরে স্বচ্ছ কাচের দেয়াল স্থাপন এবং কথা বলতে সক্ষম রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফোন বা ভিডিও কলের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

এসব সীমাবদ্ধতা দূর করতে কেন্দ্রীয় স্টেরিলাইজেশন বিভাগ প্রতিষ্ঠা, প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করা, দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং সংক্রমণ নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সরঞ্জাম সরবরাহ, পৃথক বাজেট বরাদ্দ, নিয়মিত অডিট এবং কার্যকর কমিটির মাধ্যমে বিভাগভিত্তিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

হাসপাতালের সাফল্য শুধু রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; চিকিৎসা নিতে এসে রোগীকে নতুন সংক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিএমইউ হাসপাতালে আন্তর্জাতিক মানের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রশিক্ষিত জনবল, প্রশাসনিক সদিচ্ছা ও সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

সম্পাদনা: অধ্যাপক ডা. সাইফুল আজম রঞ্জু ও প্রশান্ত কুমার মজুমদার


Loading...
Loading...

বিবিধ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: