বাংলাদেশকে আর তাঁবেদার রাষ্ট্র হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ যেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সে বিষয়ে

2026-11-07T13:30:32+00:00
2026-11-07T13:30:32+00:00
  শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬,
২৩ কার্তিক ১৪৩৩
 
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
জাতীয়
বাংলাদেশকে আর তাঁবেদার রাষ্ট্র হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩০ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ যেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সে বিষয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে হলে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা ধারণ করতে হবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ঘটনাই প্রমাণ করেছে, জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বাংলাদেশের মানুষ কখনো আপস করেনি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাদের কাছে বাংলাদেশ।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ওই বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। এর ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিতে এবং সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় ঘটে।

তবে সেই অপশক্তির ষড়যন্ত্র পরবর্তী সময়েও অব্যাহত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তারেক রহমানের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে আবারও দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়। পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয় এবং জনগণের অধিকার হরণ করে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়।

তিনি বলেন, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সেই অপশক্তির পরাজয় ঘটে। ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে হতাহত এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, আর ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম। তাঁর মতে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—দুই সময়েই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশ ৭ নভেম্বরের চেতনা থেকে বিচ্যুত হলে দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। দল, ধর্ম, বর্ণ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নির্বিশেষে সব নাগরিকের পরিচয় বাংলাদেশি—এই পরিচয়ই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি যেমন রণাঙ্গনে লড়াই করেছিলেন, তেমনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি জাতির ইতিহাস শুধু অতীত স্মরণের বিষয় নয়; সঠিক ইতিহাস আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। নতুন প্রজন্ম ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরছে—এটি আয়োজনের অন্যতম বিশেষ দিক।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম যদি জাতীয়তাবাদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না। স্বাধীনতা অর্জনের গৌরব ধরে রাখা এবং দেশকে নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব।

তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে অঙ্গীকারবদ্ধ।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হোক—‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কেউ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সরকারের উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি, তিন বাহিনীর প্রধান, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থী, তরুণ, বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: