অপহরণকারীদের কাছে জিম্মি টেকনাফের পর্যটন

টেকনাফ থেকে ইমরুল কাওসার ইমন

জাতীয়

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, সমুদ্র আর নাফ নদের অপরূপ দৃশ্যের জন্য একসময় পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য ছিল কক্সবাজারের টেকনাফ। কিন্তু

2026-11-06T17:15:26+00:00
2026-11-06T17:16:32+00:00
  শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬,
২২ কার্তিক ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
জাতীয়
অপহরণকারীদের কাছে জিম্মি টেকনাফের পর্যটন
টেকনাফ থেকে ইমরুল কাওসার ইমন
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ পিএম  আপডেট: ০৬.১১.২০২৬ ৫:১৬ পিএম
সংগৃহীত ছবি
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, সমুদ্র আর নাফ নদের অপরূপ দৃশ্যের জন্য একসময় পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য ছিল কক্সবাজারের টেকনাফ। কিন্তু বর্তমানে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও সশস্ত্র অপরাধীদের তৎপরতায় সেই পর্যটন সম্ভাবনা বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে পর্যটকদের আগ্রহ কমছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে হতাশা। একসময় পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকা এলাকাগুলোতে এখন অনেকটা স্থবিরতা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফের বাহারছড়া, হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও সদর ইউনিয়নের পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় অপহরণের ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে পর্যটন আকর্ষণসমৃদ্ধ পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অপহরণকারীদের হাতে স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে জানা গেছে। 

* ডাকাতির ভয়ে গ্রাম ছেড়েছে ২’শ পরিবার 
* নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কায় পর্যটকশূন্য হচ্ছে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র 
* সবচেয়ে সুন্দর স্পট শিলখালীতে সবচেয়ে বেশি ভয়

চলতি বছরের ২০ অক্টোবর রাতে বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শিলখালী এলাকায় সুপারি বাগান থেকে মো. রফিক নামে এক কৃষককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। এ সময় আতঙ্ক ছড়াতে গুলি ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। এর আগে একই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।

গত জুলাই মাসে বাহারছড়ার শামলাপুর পুরানপাড়া এলাকায় পরপর দুটি অপহরণের ঘটনা ঘটে। প্রায় প্রতিনিয়তই দিন ও রাতে ডাকাতির ঘটনায় নিরাপদ থাকতে দুই শতাধিক পরিবার গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে।  এসব ঘটনা স্থানীয় জনজীবনের পাশাপাশি পর্যটন পরিবেশকেও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

সরেজমিন পুরানপাড়া এলাকায় দেখা গেছে, দিনের বেলায়ও শুনশান নিরবতা। বিশাল পাহাড়ের পাদদেশে বিশাল এই গ্রাম কার্যত খালি পড়ে আছে। অপহরণকারী ও ডাকাতের ভয়ে অধিকাংশ পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের চলে গেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে বেশি সময় অবস্থান করাও সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সংবাদকর্মী শফিকুল ইসলাম জিসান এবং শরিফুল ইসলাম বলেন,  এটা খুবই ভয়ঙ্কর এলাকা। আমরাও এখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে এলে বেশ কয়েকজন এক সঙ্গে আসি। 

নিরাপত্তাহীনতার প্রভাব পড়ছে পর্যটন ব্যবসায়ও। পর্যটকদের একটি বড় অংশ নিরাপদ ভ্রমণকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় টেকনাফ ভ্রমণের পরিকল্পনা থেকে অনেকেই সরে আসছেন বলে স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্টদের অভিমত। ফলে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন।

বিশেষ করে টেকনাফের সমুদ্রসৈকত, বাহারছড়া, শামলাপুর, সাবরাং ও আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এই অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে অপহরণ ও মানবপাচার প্রতিরোধে টেকনাফে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগের কথা জানানো হয়। অপহরণ ও মানবপাচারে জড়িতদের তালিকা তৈরি এবং সমন্বিত অভিযান পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগ দ্রুত কার্যকর করে পাহাড়ি ও পর্যটন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

সচেতন মহলের মতে, টেকনাফের পর্যটনশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে শুধু অপরাধীদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না; পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত টহল, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী, পর্যটক সহায়তা কেন্দ্র এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনিক চৌধুরী ভোরের ডাককে বলেন, টেকনাফে অপহরণ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। আমরা চাই, টেকনাফে নিরাপদ পরিবেশ ফিরে আসুক এবং পর্যটনশিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াক।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জুনায়েদ আলী চৌধুরী ভোরের ডাককে বলেন,আগে টেকনাফের পাহাড় ও সমুদ্রসৈকতে প্রচুর পর্যটকের আনাগোনা ছিল। এখন অপহরণ ও মুক্তিপণের আতঙ্কে পর্যটকরা আসতে ভয় পাচ্ছেন। শুধু পর্যটক নয়, আমরাও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি। প্রশাসনের কাছে দাবি, দ্রুত পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হোক।

স্থানীয় ইসহাক নামের একজন ব্যবসায়ী ভোরের ডাককে বলেন, অপহরণের ঘটনার কারণে টেকনাফের পর্যটনশিল্প অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যটক কমে যাওয়ায় স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ছোট ব্যবসায়ীদের আয় কমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বেন। তাই পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: