চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ আবারও পিছিয়েছে। সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, চলচ্চিত্রের খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা এ মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে না পারায় তা আদালতে দাখিল করেননি তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ।
পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত প্রতিবেদন জমার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এ নিয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১১ বার সময় পেলেন তদন্ত কর্মকর্তা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক ওয়াজেদ আলী খান।
এর আগে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় মামলাটি করেন। এজাহার গ্রহণের পর আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আবদুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, সালমান শাহর প্রকৃত নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁর মা নিলুফার জামান চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখান থেকে পরিবারের সদস্যদের সিলেটে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল।
এজাহারে বলা হয়, সালমানের বাবা-মা আলাদা বাসায় থাকতেন। ইস্কাটনের বাসায় পৌঁছালে তাঁর স্ত্রী সামিরা হক ও কর্মচারী আবুল তাঁদের জানান, সালমান ঘুমাচ্ছেন। একই সময়ে চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। সালমান ঘুমিয়ে আছেন শুনে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে পরে দেখে যাওয়ার কথা জানিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের বাবাকে জানান, তাঁর ছেলের কিছু একটা হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ইস্কাটনের বাসায় পৌঁছান। সেখানে শোবার ঘরে সালমানকে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা।
এজাহারের বিবরণে উল্লেখ করা হয়, তখন কয়েকজন নারী সালমানের হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামে এক নারী সেখানে ছিলেন। এ সময় সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
পরে সালমানকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলচে হয়ে যেতে দেখেন স্বজনরা। প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পরিবার আইনি লড়াই চালিয়ে আসছে। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়লে মৃত্যুর ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।