সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে উন্নত চিকিৎসাসেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে ঢাকার পাঁচটি তৃতীয় স্তরের হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হবে। পরে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য শহরেও এ সেবা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) এসজেডএমসি ডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পিপিপি পদ্ধতিতে চিকিৎসাসেবা চালুর বিষয়ে ঢাকার পাঁচটি তৃতীয় স্তরের হাসপাতালের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে। তবে সেবার বিনিময়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কত টাকা নেবে, তা নির্ধারণে আগামী সপ্তাহে আরেকটি বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হলে কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, প্রথমে ঢাকার পাঁচটি হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে এ সেবা চালু করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শহরে তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এ বিষয়ে আগ্রহী এবং সরকার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম কেন্দ্র উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এখানে ক্যানসার ও লিভারসহ জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। হাসপাতালের সমস্যাগুলো লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলো সমাধান করা হবে।
শজিমেকে শিশুদের জন্য পৃথক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) না থাকা এবং চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে নতুন করে প্রায় ২০টি আইসিইউ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনায় বগুড়াও রয়েছে।
চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়ে তিনি জানান, নতুন যোগ দেওয়া ৫০০ চিকিৎসকের মধ্যে ১৭ জনকে বগুড়ার বিভিন্ন পর্যায়ে পদায়ন করা হয়েছে। আরও চিকিৎসক দেওয়া হবে। এ ছাড়া পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে আবেদন গ্রহণ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সাক্ষাৎকারের প্রক্রিয়া চলছে।
হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বড় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৫টি স্থানে এ কার্যক্রম চালু রয়েছে। বগুড়াসহ যেসব হাসপাতালে এ ব্যবস্থা নেই, সেগুলোকেও পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে এ খাতের অবনতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। এ নিয়ে বুধবারও বৈঠক হয়েছে।