সার আমদানির চাপ কমাতে তিন জেলায় ৩ নতুন কারখানা গড়ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

দেশের সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে এসব কারখানা নির্মাণের

2026-11-06T11:19:33+00:00
2026-11-06T11:19:33+00:00
  শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬,
২২ কার্তিক ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
জাতীয়
সার আমদানির চাপ কমাতে তিন জেলায় ৩ নতুন কারখানা গড়ছে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৯ এএম 
ফাইল ছবি
দেশের সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে এসব কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। প্রস্তাবিত কারখানাগুলোর মধ্যে ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, চট্টগ্রামে বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি এবং নরসিংদীর পলাশে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে সারের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে কৃষি খাতে সারের সরবরাহ শক্তিশালী করা এবং শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বিসিআইসি।

আমদানিনির্ভরতা কমানোই বড় লক্ষ্য

বিসিআইসির অধীনে বর্তমানে সাতটি সার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ইউরিয়া এবং দুটি নন-ইউরিয়া সার উৎপাদন করে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় এসব কারখানার উৎপাদন এখনো অনেক কম।

বিসিআইসির তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। এ সময়ে সংস্থাটির কারখানাগুলোতে উৎপাদিত হয়েছে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন। অর্থাৎ দেশের মোট ইউরিয়া চাহিদার মাত্র ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ দেশীয় উৎপাদন থেকে এসেছে।

একই অর্থবছরে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা ছিল যথাক্রমে ৭ লাখ ৫০ হাজার এবং ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে যথাক্রমে ৬৮ হাজার ২৫৯ ও ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন। চাহিদার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদনের এই হার যথাক্রমে ৯ দশমিক ১০ ও ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ফলে এসব সারের বড় অংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে সার আমদানির পাশাপাশি কৃষকদের জন্য সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকিও দিতে হচ্ছে। বিসিআইসির কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারে ২৩ হাজার টাকা, টিএসপিতে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা এবং ডিএপি সারে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার।

উৎপাদন ঘাটতি, আমদানিনির্ভরতা ও ভর্তুকির চাপ বিবেচনায় নিয়েই নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং আধুনিকায়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের পরিকল্পনা

ইউরিয়া সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে ভোলায় নতুন একটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বিসিআইসির। প্রস্তাবিত কারখানাটিতে প্রতিদিন ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে কারখানাটি চালু রাখতে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হবে। ফলে প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করাকে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ভোলায় প্রস্তাবিত কারখানাটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এ ধরনের বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চট্টগ্রামে বছরে ৪ লাখ টন টিএসপি উৎপাদনের উদ্যোগ

ফসফেটজাত সারের আমদানিনির্ভরতা কমাতে চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় নতুন টিএসপি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। টিএসপিসিএল কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জায়গায় কারখানাটি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ মেট্রিক টন।

বর্তমানে বিসিআইসির টিএসপি কমপ্লেক্সে কাঁচামালের সংকট এবং প্ল্যান্টের বিভিন্ন সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নতুন কারখানাটি স্থাপন করা গেলে দেশে টিএসপি উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা জানান, টিএসপি সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রকল্পের কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিকগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের সার সরবরাহে স্থানীয় উৎপাদনের অংশ বাড়বে।

পলাশে গড়ে উঠবে ইউএফ-৮৫ কারখানা

নরসিংদীর পলাশেও নতুন শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা করছে বিসিআইসি। ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জায়গায় বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামো ও অব্যবহৃত জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি ইউএফ-৮৫ উৎপাদনে নতুন সক্ষমতা যুক্ত হবে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জায়গা ব্যবহার করে নতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। পলাশের প্রস্তাবিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রযুক্তি, বাজারের চাহিদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তিন কারখানায় বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগ

নতুন তিনটি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। নির্মাণকাজ থেকে শুরু করে কারখানার উৎপাদন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ—প্রতিটি পর্যায়েই দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হবে।

প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও দক্ষ শ্রমিকের পাশাপাশি পরিবহন, কাঁচামাল সরবরাহ, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিভিন্ন সেবামূলক খাতেও কাজের সুযোগ বাড়তে পারে। ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিল্প কর্মকাণ্ড ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, নতুন কারখানা স্থাপিত হলে নির্মাণ থেকে শুরু করে উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা, উৎপাদন প্রযুক্তি ও জনবল কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার পর।

তিনি বলেন, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প খাতে দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: