ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। তবে প্রথম ম্যাচের জয়েও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই দলটি। কোচ থমাস ডুলির কৌশল ও খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক ফুটবলাররা। বিশেষ করে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষকে আক্রমণভাগে খেলানো এবং ছন্দে থাকা ফরোয়ার্ড ইব্রাহিমকে প্রথম একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলির মতে, সাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নেই। দলে নিয়মিত স্ট্রাইকারের সংকট থাকার পরও একজন ডিফেন্ডারকে আক্রমণভাগে খেলানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বাংলাদেশের আক্রমণভাগে কার্যকর নাম্বার নাইনের অভাব দীর্ঘদিনের। এবার প্রবাসী ফুটবলার রোনান ও মাহে খানকে নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হলেও চোটের কারণে দলে যোগ দিতে পারেননি রোনান। অন্যদিকে কোচের প্রশংসা পাওয়া মাহে খানও জায়গা পাননি ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াডে। খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় এ বিষয়টিও সামনে এনেছেন এমিলি।
ভুটানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই বাংলাদেশের জয়সূচক গোল করেন ইব্রাহিম। ফর্টিজের হয়ে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের পরও তাঁকে প্রথম একাদশে না রাখায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সাবেক এই অধিনায়ক। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ইব্রাহিম ও সোহেল রানা মাঠে নামার পর বাংলাদেশের খেলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
সাবেক তারকা স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদও ভুটান ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তাঁর মতে, খেলোয়াড়দের পজিশন বদলে ভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও খেলোয়াড়দের পারস্পরিক সমন্বয়ে ঘাটতি ছিল।
আগামী ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ৯ নভেম্বর ফিফা উইন্ডো শুরু হলে হামজা ও ফারহানের দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রবাসী ফুটবলারনির্ভর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে তাই ভুটান ম্যাচের কৌশল ও পারফরম্যান্স নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে।