স্ত্রীর সঙ্গে ২৬ বছরের বয়সের পার্থক্য। বিয়ের পর থেকেই এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম সমালোচনা শুনতে হয়নি বলিউড অভিনেতা ও মডেল মিলিন্দ সোমনকে। স্ত্রী অঙ্কিতা কনওয়ারকে নিয়েও নানা সময় কটাক্ষ করেছেন নেটিজেনদের একাংশ। তবে এসব নেতিবাচক মন্তব্য তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে জানিয়েছেন মিলিন্দ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বয়সের ব্যবধান নিয়ে সমালোচনা এবং সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এই অভিনেতা। তাঁর ভাষ্য, মানুষের মন্তব্য তাঁকে বিশেষ বিচলিত না করলেও শুরুতে বিষয়টি অঙ্কিতার জন্য কিছুটা কঠিন ছিল।
৪ নভেম্বর ৬১ বছরে পা দিয়েছেন মিলিন্দ। জন্মদিনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে স্ত্রী অঙ্কিতার সঙ্গে তাঁর বয়সের পার্থক্য এবং এ নিয়ে দীর্ঘদিনের অনলাইন সমালোচনা।
জুমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিলিন্দ বলেন, তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য করা হলেও সেসব তাঁকে তেমন স্পর্শ করেনি। তবে অঙ্কিতার জন্য বিষয়টি শুরুতে সহজ ছিল না। কারণ, এ ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর তুলনামূলক কম ছিল।
মিলিন্দের কথায়, ‘এতে আমার কিছু যায়-আসেনি। তবে অঙ্কিতার খারাপ লাগতে পারত, কারণ এ ধরনের অভিজ্ঞতা তার কম ছিল। আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। আমি তাকে বলেছিলাম, যারা এসব মন্তব্য করছে, তারা তোমাকে বা আমাকে চেনে না। তারা যা বলছে, সেগুলো তাদের নিজস্ব মতামত।’
অভিনেতা জানান, তাঁদের মধ্যে আলোচনার পর অঙ্কিতা বিষয়টি বুঝতে পারেন। এরপর থেকে নেতিবাচক মন্তব্য তাঁকে আর আগের মতো প্রভাবিত করতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর মানসিক দৃঢ়তারও প্রশংসা করেছেন মিলিন্দ।
তাঁর মতে, দুজনের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পর্কের গভীরতা বাইরের সমালোচনা সামলাতে সাহায্য করেছে। সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এসেছে। তবে অন্যের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তাঁরা একসঙ্গে থাকেননি। বরং নিজেদের ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার জায়গা থেকেই সম্পর্ক এগিয়ে নিয়েছেন।
বয়সের ব্যবধানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ভিন্নতাও
মিলিন্দ ও অঙ্কিতার মধ্যে শুধু বয়সের পার্থক্যই নয়, রয়েছে বেড়ে ওঠা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের ভিন্নতাও। মিলিন্দ মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা, অন্যদিকে অঙ্কিতার শিকড় আসামে। ভাষা, খাবারের অভ্যাস, পারিবারিক পরিবেশ এবং প্রজন্মগত অভিজ্ঞতায় তাঁদের মধ্যে রয়েছে নানা অমিল।
এর আগে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিলিন্দ জানিয়েছিলেন, অঙ্কিতা তাঁর চেয়ে ২৬ বছরের ছোট হওয়ায় চিন্তাভাবনা, বেড়ে ওঠা ও জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে অঙ্কিতার চিন্তাভাবনাকে তিনি ব্যতিক্রমী ও অসাধারণ বলে উল্লেখ করেন।
মিলিন্দের মতে, ভিন্ন প্রজন্ম ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল থেকে আসার কারণে তাঁদের অভ্যাস ও অভিজ্ঞতায় পার্থক্য রয়েছে। তারপরও চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির জায়গায় দুজনের মিল খুঁজে পাওয়াটাই তাঁদের সম্পর্কের বিশেষ দিক। অঙ্কিতার সঙ্গে পরিচয়ের পর তাঁর জীবন আরও সুন্দর হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন অভিনেতা।
হোটেলে পরিচয়, চার বছর পর বিয়ে
মিলিন্দ ও অঙ্কিতার পরিচয় চেন্নাইয়ের একটি হোটেলে। সে সময় অঙ্কিতা বিমানসেবিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, এরপর প্রেম—এভাবেই এগিয়ে যায় তাঁদের সম্পর্ক। কয়েক বছর প্রেমের পর ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল বিয়ে করেন তাঁরা।
বিয়ের সময় মিলিন্দের বয়স ছিল ৫২ বছর, আর অঙ্কিতার ২৬। অর্থাৎ দুজনের বয়সের ব্যবধান ছিল ২৬ বছর। বিয়ের পর থেকেই এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে সেসবের জবাবে বারবার নিজেদের ভালোবাসা ও পারস্পরিক আস্থার কথা জানিয়েছেন এই দম্পতি।
২০১৯ সালে একটি বিজ্ঞাপন প্রচারণার মাধ্যমেও বয়সের ব্যবধান নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাব দিয়েছিলেন তাঁরা। সে সময় দুজনই জানিয়েছিলেন, একটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে বয়সের হিসাবের চেয়ে একে অপরের ভালো থাকা, বোঝাপড়া ও ভালোবাসাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।