মোহাম্মদ ইকবালের পরিচালনায় ‘গুলশানের চামেলি’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ঢাকাই চলচ্চিত্রে পা রাখতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ছবি থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন চাউর হলে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। অবশেষে এই গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন নির্মাতা ও নায়িকা দুজনেই।
পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এ ধরনের কথা কে বা কারা রটিয়েছেন, আমি জানি না। আগামী মাস থেকেই আমাদের ছবির শুটিং শুরু হতে যাচ্ছে। সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ এখন একদম শেষ পর্যায়ে। আগামী ১ ডিসেম্বর এফডিসির দুই নম্বর ফ্লোরে মধুমিতাকে নিয়েই আমরা ক্যামেরা ওপেন করব।”
পরিচালক আরও জানান, চলতি মাসেই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ছবির সেট নির্মাণের কাজ শুরু হবে। আর শুটিংয়ে অংশ নিতে আগামী ২৮ নভেম্বর ঢাকা আসার কথা রয়েছে মধুমিতা সরকারের।
অন্যদিকে, সিনেমা ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী মধুমিতাও। তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিনই এ ধরনের নানা ভিত্তিহীন গুঞ্জন ছড়ায়। এসব নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এই সিনেমাটিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরও কিছু মানুষ নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন, আর এখন দেখছি নতুন করে ছবি ছাড়ার গুজব ছড়ানো হচ্ছে।”
সিনেমার পটভূমি ও তারকাবহুল কলাকুশলী
রাজনীতি, ক্ষমতার চরম অপব্যবহার এবং অভিজাত সমাজের নানা অন্ধকার দিক ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে ‘গুলশানের চামেলি’ সিনেমায়। ছবিটির গল্পে দেখা যাবে, এর কেন্দ্রীয় চরিত্রটি একজন যৌনকর্মী, যিনি কোনো অপরাধ না করেও বারবার ক্ষমতার নির্মম ও নোংরা খেলার শিকার হন। এই চ্যালেঞ্জিং ও কেন্দ্রীয় চরিত্রেই পর্দা মাতাবেন মধুমিতা সরকার।
আবদুল্লাহ জহির বাবুর চিত্রনাট্যে নির্মিত হতে যাওয়া এই সিনেমায় মধুমিতা ছাড়াও আরও একঝাঁক তারকা অভিনয় করবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—রোজিনা, আজমেরী হক বাঁধন, ওমর সানী, আমান খান, বাপ্পারাজ ও মিশা সওদাগর।