মৃত্যুর আশঙ্কা, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর চিকিৎসার দীর্ঘ যন্ত্রণা—একসময় সবকিছু মিলিয়ে জীবনটাই যেন থমকে গিয়েছিল ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টির। ব্রেন টিউমার ও ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ নয় মাসের কঠিন লড়াইয়ের দিনগুলোতে শুনতে হয়েছিল আরও ভয়াবহ এক কথা। ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক ক্যানসার বিশেষজ্ঞ তাকে জানিয়েছিলেন, হয়তো আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর বাঁচবেন তিনি। চিকিৎসকের মুখে এমন কথা শুনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অসুস্থতার সেই দুঃসহ সময়ের স্মৃতি তুলে ধরেছেন তানিয়া বৃষ্টি। জানিয়েছেন, কীভাবে হঠাৎ অসুস্থতা, মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত, একের পর এক অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। মৃত্যুর আশঙ্কার মধ্যেও পরিবার ও ভক্তদের ভালোবাসা তাকে নতুন করে বাঁচার সাহস জুগিয়েছে।
অভিনয়ে ব্যস্ত সময় কাটছিল তানিয়া বৃষ্টির। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বরে শুটিং চলাকালে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা ও বমিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তার মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে। মুহূর্তেই বদলে যায় জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ।
টিউমার শনাক্ত হওয়ার পর ঢাকার একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে তা অপসারণ করা হয়। তবে সেখানেই শেষ হয়নি চিকিৎসার কঠিন অধ্যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালে যান অভিনেত্রী। সেখানে আরও একটি জটিল অস্ত্রোপচার, দীর্ঘ চিকিৎসা ও কেমোথেরাপির মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে।
চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক অনকোলজিস্ট তানিয়া বৃষ্টির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি হয়তো আর মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর বাঁচবেন। জীবনের এমন কঠিন সময়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে এমন আশঙ্কার কথা শোনা ছিল তার জন্য বড় ধাক্কা।
অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই মুহূর্তে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সামনে কী অপেক্ষা করছে, কত দিন বাঁচবেন—এমন অনিশ্চয়তা ঘিরে ধরেছিল তাকে। তবে সেই দুঃসময়ে হাল ছাড়েননি।
কঠিন সময়টায় তানিয়া বৃষ্টির পাশে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ছিলেন তার মা ও বোন। রাত জেগে সেবা-যত্ন করেছেন তারা। নাট্যাঙ্গনের সহকর্মীরাও নিয়মিত খোঁজ নিয়েছেন। আর ভক্তদের ভালোবাসা ও দোয়া অভিনেত্রীকে দিয়েছে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা।
দীর্ঘ চিকিৎসা ও বিশ্রামের পর গত ৩ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে নিজের শারীরিক অবস্থার উন্নতির কথা জানান তানিয়া। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথও তৈরি হতে থাকে।
দীর্ঘ নয় মাসের বিরতি কাটিয়ে অবশেষে অভিনয়ে ফিরেছেন তানিয়া বৃষ্টি। ইকসান রনির পরিচালনায় ‘অংশীদার’ নামের একটি একক নাটকের শুটিংয়ের মধ্য দিয়ে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
মৃত্যুর আশঙ্কা আর অসুস্থতার কঠিন অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে কাজে ফেরাটা তার জন্য নিঃসন্দেহে আবেগের এক অধ্যায়। তানিয়ার বিশ্বাস, রোগের নাম শুনে মনোবল হারানো উচিত নয়। সঠিক চিকিৎসা ও মানসিক দৃঢ়তা ধরে রাখতে পারলে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাওয়া যায়।
একসময় যে অভিনেত্রীকে শুনতে হয়েছিল জীবনের সময় ফুরিয়ে আসার আশঙ্কার কথা, সেই তানিয়া বৃষ্টিই নয় মাসের লড়াই শেষে আবার ফিরেছেন আলো-ঝলমলে ক্যামেরার সামনে। তার এই ফিরে আসা ভক্তদের জন্যও স্বস্তি ও আনন্দের খবর।