চুক্তি অনুযায়ী একটি সিনেমায় অভিনয়ের কথা, অথচ কোরবানির ঈদে মুক্তির জন্য নির্মিত অন্য সিনেমায় যুক্ত হওয়ার ঘোষণা—এমন অভিযোগে আইনি জটিলতায় পড়েছেন চিত্রনায়ক শরিফুল রাজ। চুক্তি ভঙ্গ ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ এনে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশন। নোটিশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শুটিংয়ের শিডিউল নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় ক্ষতিপূরণ আদায়সহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার শাহরিন আক্তার সুমির পক্ষে গত ২৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সজীব মাহমুদ আলম এই নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের কোরবানির ঈদে মুক্তির লক্ষ্যে নির্মিতব্য ‘ঠিকানা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শরিফুল রাজের সঙ্গে চুক্তি করে রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশন। চুক্তির সময় তাঁকে অগ্রিম পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ওই ঈদে মুক্তির জন্য নির্মিত অন্য কোনো সিনেমায় অভিনয় কিংবা এ ধরনের সিনেমার প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না রাজ।
কিন্তু অভিযোগ, গত ৩১ আগস্ট ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’ নামে আরেকটি সিনেমায় অভিনয়ের ঘোষণা দেন রাজ। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সিনেমাটির পোস্টারও শেয়ার করেন তিনি। বিষয়টি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নজরে আসার পর তাঁকে আপত্তির কথা জানানো হয়। তবে এরপরও পোস্টারটি ফেসবুক থেকে সরাননি অভিনেতা—এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে আইনি নোটিশে।
নোটিশে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর রাজকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। সেটি পাওয়ার পর অভিনেতা ও তাঁর ম্যানেজার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সমাধানের আশ্বাসও দেন তাঁরা।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও সিনেমাটির শুটিংয়ের শিডিউল দেননি রাজ। এতে ‘ঠিকানা’ সিনেমার প্রি-প্রোডাকশনের কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। সময়মতো কাজ শুরু না হওয়ায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ও স্পনসরদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে নোটিশে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত শুটিংয়ের শিডিউল নিশ্চিত করতে হবে শরিফুল রাজকে। তা না হলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া অগ্রিম অর্থসহ সিনেমাটি ঘিরে সৃষ্ট সব ধরনের ক্ষতি ও লোকসানের দায় তাঁকে নিতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নোটিশের জবাব না পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত শরিফুল রাজের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি। ফলে চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।