
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। কলেজটিতে ৭২৪ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। পাস করেছেন ১ হাজার ২১৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র তিনজন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর কলেজটি থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ৯৩৯ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ৯১৫ জন। পাস করেছেন ১ হাজার ২১৫ জন। সে হিসাবে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র তিনজন।
বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এ বিভাগে পাস করেছেন ৫৫৬ জন, ফেল করেছেন ৩৫৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন দুজন।
মানবিক বিভাগে পাস করেছেন ৩৯৬ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ২৪৪ জন। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন একজন।
অন্যদিকে, বিজ্ঞান বিভাগে পাস করেছেন ২৬৩ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১২৬ জন। এ বিভাগ থেকে কেউ জিপিএ-৫ পাননি।
সামগ্রিক ফলাফলে পাসের হার তুলনামূলক কম এবং জিপিএ-৫-এর সংখ্যা মাত্র তিন হওয়ায় কলেজটির শিক্ষার মান ও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ।
রহিমা আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এমন একটি কলেজে ১ হাজার ৯৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১ হাজার ২১৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র তিনজন। বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। অন্যদিকে ঢাকা কলেজ থেকে ১ হাজার ১৩৬ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন ১ হাজার ১২৯ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৮৮ জন। ঢাকা কলেজের শিক্ষকেরাও বিসিএস ক্যাডার, এখানকার শিক্ষকেরাও বিসিএস ক্যাডার। সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও বড় কোনো পার্থক্য নেই। তাহলে কলেজ প্রশাসনের ভূমিকা কী? এখানে পড়াশোনার মান কি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে?’
হাসান আহমেদ নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কলেজ প্রশাসনই এর জন্য দায়ী। তারা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়ে যথেষ্ট তদারকি করে না। যেখানে একটি শ্রেণিকক্ষে ১০০ জনের বসার ব্যবস্থা, সেখানে ৮০০ থেকে ১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাস করা এক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতিই খারাপ ফলের অন্যতম কারণ। তাঁর অভিযোগ, অনেক শিক্ষার্থী কলেজে যাওয়ার কথা বলে বাইরে সময় কাটান, কিন্তু এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি নেই। অন্য সরকারি কলেজগুলোতে এক-দুই দিন অনুপস্থিত থাকলেও অভিভাবকদের জানানো হয় এবং ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, ভালো ফল করা শিক্ষার্থীরা মূলত নিজেদের চেষ্টাতেই সফল হয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়ের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ফলাফল নিয়ে কলেজের অফিসার্স কাউন্সিলের সম্পাদক ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। সোহরাওয়ার্দী কলেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই এতে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হবেন। আমিও বিষয়টি নিয়ে হতাশ। কী কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে, তা নিয়ে আমরা বসে পর্যবেক্ষণ করব। ফলাফল ও এ-সংক্রান্ত বিষয়টির উন্নয়নে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ঘাটতি না থাকলে এমন ফলাফল হওয়ার কথা নয়। গত বছর প্রাইভেট শিক্ষার্থীরা এসে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাই ফলাফল খারাপ হয়েছিল। তবে এ বছর, আমার জানা মতে, তা বন্ধ ছিল।’
উল্লেখ্য, শনিবার সকালে চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।