
তারকাসমৃদ্ধ আর্সেনালকে হারিয়ে কারাবাও কাপের পরের রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ডের চতুর্থ স্তরের দল ফ্লিটউড। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর পেনাল্টি শুটআউটে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে অঘটনের জন্ম দিয়েছে দলটি। অন্যদিকে, শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত আর্সেনালকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে হতাশা নিয়ে।
বুধবার রাতে হাইবুরি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কাগজে-কলমে এগিয়ে ছিল আর্সেনালই। দুই দলের শক্তি ও অভিজ্ঞতার ব্যবধান বিবেচনায় গানার্সদের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন অনেক সমর্থক। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সেই ব্যবধান কাজে লাগাতে পারেনি মিকেল আর্তেতার দল। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হার মেনে নেয় তারা।
ম্যাচে মূল একাদশে নয়টি পরিবর্তন এনেছিল আর্সেনাল। তবে দলটিতে কাই হ্যাভার্টজ ও ম্যাক্স ডাউম্যানের মতো খেলোয়াড় ছিলেন। পরে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডও। তারপরও ফ্লিটউডের বাধা পেরোতে পারেনি লন্ডনের ক্লাবটি। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে নেয় ফ্লিটউড।
হারের পর হতাশা লুকাননি আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা। প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ (গতকাল) সত্যিই আমাদের মন খারাপের দিন। এটাই ফুটবলের সৌন্দর্য। পরের রাউন্ডে যাওয়ায় ফ্লিটউডকে অভিনন্দন।’
ইংলিশ ফুটবলে আর্সেনালের অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। ক্লাবটি ১৪ বার এফএ কাপ জিতেছে এবং প্রিমিয়ার লিগ যুগে তিনবার ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের শিরোপা পেয়েছে। পাশাপাশি কারাবাও কাপসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়ও শিরোপা জয়ের ইতিহাস রয়েছে তাদের। এত ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা থাকার পরও এবার তুলনামূলক নিচের সারির দলের কাছে হার তাদের কাপযাত্রায় বড় ধাক্কা হয়ে এল।
অন্যদিকে, ফ্লিটউডের জন্য এই জয় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে বিদায় করে পরের রাউন্ডে ওঠা দলটির খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য বড় প্রাপ্তি। কারাবাও কাপের মতো নকআউট প্রতিযোগিতায় এক ম্যাচের ফলই যে সব হিসাব পাল্টে দিতে পারে, আর্সেনালের বিদায় তারই আরেকটি উদাহরণ।
কারাবাও কাপ ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ফুটবলের অন্যতম নকআউট প্রতিযোগিতা, যা আগে ফুটবল লিগ কাপ নামে পরিচিত ছিল। এই টুর্নামেন্টে বড় ক্লাবের পাশাপাশি ছোট ক্লাবগুলোরও নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ থাকে। এবার সেই মঞ্চেই আর্সেনালকে হারিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে ফ্লিটউড।