দেশে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। একদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, অন্যদিকে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও সাতজন। দুই রোগে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ, যাদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত পৃথক তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৭১ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৮৯৯ জন, ময়মনসিংহে ৯৭ জন, চট্টগ্রামে ২৪১ জন, খুলনায় ২৫০ জন, রাজশাহীতে ২২৯ জন, রংপুরে ১১২ জন, বরিশালে ২১৭ জন এবং সিলেটে ২৬ জন রয়েছেন।
চলতি বছরের শুরু থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৪২২ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬ হাজার ৪১৫ জন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০০ জনে।
ডেঙ্গুর পাশাপাশি হাম ও হামের উপসর্গ নিয়েও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নিশ্চিত হামে একজন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জন মারা গেছেন।
একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৯৫ শিশু। এর মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগী ১ হাজার ২৩২ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৩ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট ১ হাজার ২৪০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৩৫ জন এবং নিশ্চিত হামে ১০৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ সময়ে সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ১২৭ জন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৪ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৫৪১ জনের।
ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও হাসপাতালে রোগীর চাপের পাশাপাশি হাম ও হামের উপসর্গে শিশুদের মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।