
বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের উপস্থাপনায় কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল বাহিনীর প্রশিক্ষণ অবকাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মমুখী শিক্ষা এবং দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পায়। এ সময় বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো, আধুনিকায়ন, সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জননিরাপত্তা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে এর ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
মহাপরিচালক জানান, তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত আনসার-ভিডিপি বাহিনী জাতীয় নিরাপত্তা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার, নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং নিজস্ব এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সদস্যদের সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও ‘প্রকল্প সঞ্জীবন’-এর মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং তৃণমূল পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক বিশ্বের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা বাহিনীর অন্যতম অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নীতিমালা ও বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কারিগরি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ চলছে। জাপানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ও বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগও তুলে ধরেন তিনি।
পরে কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল ইভি কারযোগে প্রান্তিক শক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (পিএসটিসি) পরিদর্শন করে। সেখানে তাঁরা ৬জি ওয়েল্ডিং কর্মশালা, সবুজ জ্বালানি ও সৌরবিদ্যুৎ প্রশিক্ষণ, ড্রাইভিং সিমুলেটর, ভ্রাম্যমাণ আইসিটি প্রশিক্ষণ বাস, কুটিরশিল্প, জাপানি ভাষা শিক্ষা, আতিথেয়তা ও রন্ধনশিল্প প্রশিক্ষণকেন্দ্র ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া নির্মাণ, ড্রাইভিং ও গার্মেন্টস শিল্পবিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কেও তাঁরা অবহিত হন। প্রশিক্ষণের মান ও সুযোগ-সুবিধা দেখে প্রতিনিধিদল সন্তোষ প্রকাশ করে।
পরিদর্শনে কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরির গুরুত্ব উঠে আসে। ওয়েল্ডিং, নির্মাণ, ড্রাইভিং, গার্মেন্টস এবং আতিথেয়তা খাতে প্রশিক্ষণ দেশের শিল্প ও সেবা খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ, সবুজ জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পারে। জাপানি ভাষা শিক্ষাও আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রস্তুতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
আনসার-ভিডিপির ৬০ লাখের বেশি সদস্যের নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়। এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেশীয় শিল্পে দক্ষ কর্মীর জোগান বাড়ানোর পাশাপাশি প্রবাসী কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক আয় বৃদ্ধিতেও অবদান রাখতে পারে। কূটনীতিকদের এ সফর প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনীন রশিদ, কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা, সিঙ্গাপুরের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ফিলিপ ওং এবং মরক্কোর রাষ্ট্রদূত লাল্লা বুতাইনা এল কেরদৌদি এল কৌলালি উপস্থিত ছিলেন।