
দীর্ঘ কর্মজীবনে সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও সংগীত—তিন ক্ষেত্রেই অবদান রেখেছেন এ ইউ এম ফখরুদ্দীন। ১৯৫৮ সালে ‘কচি-কাঁচার আসর’-এর আহ্বায়ক হিসেবে সংবাদমাধ্যমে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বর্তমানে বিলুপ্ত দৈনিক দ্য পাকিস্তান অবজারভার ও দ্য মর্নিং নিউজ-এ অসংখ্য নিবন্ধ লেখেন তিনি। দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত লন্ডনের দ্য ডেইলি মিরর-এর সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন ফখরুদ্দীন।
তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ছিল ১৯৭৪ সালের বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরিতে ভূমিকা রাখা। প্রখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক ও লেখক জন পিলজারের সহযোগী প্রতিবেদকদের একজন হিসেবে তিনি ওই দুর্ভিক্ষের মানবিক বিপর্যয় তুলে ধরতে কাজ করেন। এ বিষয়ে পিলজারের প্রতিবেদনভিত্তিক তথ্যচিত্র An Unfashionable Tragedy ১৯৭৫ সালের ২ জানুয়ারি সম্প্রচারিত হয়। তথ্যচিত্রটিতে ফখরুদ্দীনের বক্তব্যও ধারণ করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে জন পিলজার তাঁর বিখ্যাত Heroes গ্রন্থে এ ইউ এম ফখরুদ্দীনকে নিয়ে প্রায় তিন পৃষ্ঠা লেখেন এবং তাঁর একটি ছবিও সংযুক্ত করেন। বইটি ১৯৮৬ সালে লন্ডনের জনাথন কেপ এবং ১৯৮৯ সালে প্যান বুকস লিমিটেড থেকে প্রকাশিত হয়।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায়ও অবদান রেখেছেন ফখরুদ্দীন। স্নাতক সম্পন্ন করার আগেই তাঁর বাংলা অনুবাদে শেক্সপিয়রের ‘সনেট’ প্রকাশিত হয়। সংগীতের ক্ষেত্রেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। তাঁর লেখা দেশাত্মবোধক গান ‘ও আমার বাংলা মা, তোর আকুল করা রূপের সুধায় হৃদয় আমার যায় জুড়িয়ে’ ১৯৭২ সালে রেকর্ড করা হয়। গানটি দেশে-বিদেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাপ্তাহিক হলিডে-এর সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এ ইউ এম ফখরুদ্দীন।
তাঁর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে তাঁর আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।