
রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সচেতন সাংবাদিক ইউনিটির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা কামরুজ্জামান বাবলুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সব ধরনের হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সাংবাদিক সংগঠনের নেতা ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশ নেন। সচেতন সাংবাদিক ইউনিটির কর্মসূচি সমন্বয়ক সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী মহিন উদ্দিন স্বপন এবং এ এফ এম রাসেল পাটোয়ারী যৌথভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
বক্তারা বলেন, মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলুর ঘটনায় ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশনের (এফবিজেও) মহাসচিব ও দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. শামছুল আলম বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টসের (বিএফইউজে) নির্বাহী সদস্য মো. আবু হানিফ বলেন, ৫ আগস্টের পর গুম, খুন ও অপহরণ চিরতরে নির্মূলের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। এরপরও একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের গুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ জাতির জন্য লজ্জাজনক। সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো ও কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। কামরুজ্জামান বাবলুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পোস্তগোলা ওভারব্রিজের নিচে তথ্য দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে অস্ত্রের মুখে কামরুজ্জামান বাবলুকে অপহরণ করে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় তিনি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলা করেছেন। মামলাটি ২৮২/২৬ নম্বরে নথিভুক্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মানববন্ধনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ খন্দকার আলমগীর হোসেন, দৈনিক তরুণ কণ্ঠের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শান্ত, মানবাধিকারকর্মী সেলিম রেজা বাচ্চু, বৈশাখী সংবাদের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, দৈনিক আগামীর সময়ের স্টাফ রিপোর্টার নোমান মোশাররফসহ বিভিন্ন সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।